বয়স ৩০ পেরোলেই ক্লান্ত? যে ৫টি পরীক্ষা নারীদের জন্য জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সময়মতো ঘুমাতে যান, টানা আট ঘণ্টা ঘুমও হয়। খাবারদাবারেও সচেতন। তবু দিনের শুরু থেকেই ক্লান্ত লাগে, কাজে মন বসে না, বারবার হাই ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবেন, বয়স বাড়ার কারণে হয়তো এমন হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ খুঁজতে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা সহায়ক হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন পাঁচটি পরীক্ষার কথা তুলে ধরা হলো।
১. ভিটামিন ডি পরীক্ষা
ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতির সঙ্গে ক্লান্তি ও মন খারাপের সম্পর্ক থাকতে পারে। রোদে থাকার সুযোগ থাকলেও অনেকের শরীরে এই ভিটামিনের মাত্রা কম হতে পারে। তাই প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি পরীক্ষা করা যায়।
২. ভিটামিন বি১২ পরীক্ষা
ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা, মাথা ঝাপসা লাগা এবং হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড় অনুভূতি হতে পারে। এসব লক্ষণ অন্য সমস্যার সঙ্গেও মিলে যাওয়ায় অনেক সময় ঘাটতি শনাক্ত হতে দেরি হয়।
৩. আয়রন ও ফেরিটিন পরীক্ষা
শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও আয়রনের মজুত কম থাকতে পারে। ফেরিটিন পরীক্ষায় শরীরে জমা আয়রনের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আর ট্রান্সফেরিন স্যাচুরেশন পরীক্ষায় আয়রন পরিবহণের অবস্থা বোঝা যায়।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে আয়রনের ঘাটতি ক্লান্তির একটি সম্ভাব্য কারণ। রক্তস্বল্পতা না থাকলেও ফেরিটিন কম থাকলে কিছু মানুষের ক্লান্তি বাড়তে পারে। তবে আয়রন গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. উচ্চ সংবেদনশীল সিআরপি (এইচএস-সিআরপি)
এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে প্রদাহের কিছু লক্ষণ শনাক্ত করা যায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ক্লান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে প্রদাহ ছাড়াও ব্যথা, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই শুধু এই পরীক্ষার ফল দিয়ে ক্লান্তির কারণ নির্ধারণ করা যায় না।
৫. থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোন (টিএসএইচ) পরীক্ষা
থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া ও শক্তি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং শরীরের তাপমাত্রা সহ্য করতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের আগের সময়েও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় বা ভিটামিন-খনিজ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি পরীক্ষা নির্ধারণ করবেন। কারণ খুঁজে বের করতে পারলেই উপযুক্ত চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে সুস্থতা ফিরিয়ে আনার পথ সহজ হয়।
সূত্র: রুটস টু ব্রাঞ্চেস

