সাড়ে ৫ কোটি টাকার বিলাসবহুল ঘড়ি ‘শ্রীরামচন্দ্র’; কী আছে এতে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ঘড়ি ‘শ্রীরামচন্দ্র’। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সময়ের কাঁটায় ভক্তি, নকশায় আধ্যাত্মিকতা আর কারিগরিতে বিলাসিতার অনন্য মেলবন্ধন। ভগবান রাম ও অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুপ্রেরণায় তৈরি বিলাসবহুল ঘড়ি ‘শ্রীরামচন্দ্র লিমিটেড এডিশন’ নিয়ে এখন ঘড়িপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিখ্যাত ঘড়ি নির্মাতা সংস্থা জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র তৈরি এই বিশেষ ঘড়িটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে শুধু আকাশছোঁয়া দামই নয়, এর বিরলত্বও ঘড়িটিকে অনন্য করে তুলেছে। সংস্থার দাবি, বিশ্বজুড়ে এই সংস্করণের মাত্র তিনটি ঘড়ি তৈরি করা হয়েছে।
ভক্তি, প্রতীকী নকশা ও অত্যাধুনিক ঘড়ি নির্মাণশিল্পের সমন্বয়ে তৈরি এই সময়যন্ত্র যেন বিলাসিতার মোড়কে এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
রামমন্দিরের অনুপ্রেরণায় জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র বিশেষ সৃষ্টি
এর আগে ‘রাম জন্মভূমি’ ঘড়ি তৈরি করে আলোচনায় এসেছিল জ্যাকব অ্যান্ড কো.। এবার সেই ধারাবাহিকতায় সংস্থাটি এনেছে ‘শ্রীরামচন্দ্র’ লিমিটেড এডিশন। সম্প্রতি নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘড়িটির কথা ঘোষণা করেছে তারা।
জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র জনপ্রিয় অ্যাস্ট্রোনোমিয়া সোলার মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ সংস্করণ। মাত্র তিনটি ঘড়ি তৈরি হওয়ায় এটি বিলাসবহুল ঘড়ির সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত বিরল একটি সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডায়ালে ভগবান রাম ও হনুমান
ঘড়িটির অন্যতম আকর্ষণ এর সূক্ষ্ম ও প্রতীকী নকশা। সংস্থার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, ডায়ালে দেবদেবীদের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছয়টার অবস্থানে রয়েছেন ভগবান রাম এবং ন’টার অবস্থানে ভগবান হনুমান।
ঘড়িটির ভেতরে রয়েছে নীল ল্যাকার দিয়ে তৈরি পৃথিবীর প্রতিকৃতি। এটি নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরে মাত্র এক মিনিটে একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে। এর বিপরীতে, ১২টার অবস্থানে রয়েছে ফ্লাইং ট্যুরবিলন কেজ, যা এক মিনিটে একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে।
ঘড়ির ভেতরে পৃথিবীর ঘূর্ণন ও ট্যুরবিলনের এই সমন্বয় জটিল যান্ত্রিক কারিগরির পাশাপাশি নকশায়ও এনে দিয়েছে বিশেষ মাত্রা।
সূর্যের প্রতীক কমলা রঙের মূল্যবান পাথর
ঘড়িটির ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটা তৈরি করা হয়েছে ৫এন রোজ গোল্ড দিয়ে। কাঁটাগুলো যুক্ত রয়েছে কমলা রঙের ফায়ার ওপাল পাথরে তৈরি একটি অফ-সেন্টার ডায়ালের সঙ্গে।
ঘড়িটির কেন্দ্রে রয়েছে গেরুয়া আভাযুক্ত কমলা রঙের কিউবিক জিরকোনিয়া পাথর। জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র নিজস্ব কাটে তৈরি এই পাথরটি সূর্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কমলা ও গেরুয়া রঙের বিন্যাস এবং পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজ ঘড়িটির আধ্যাত্মিক ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মন্দির, মণ্ডল ও ত্রিমাত্রিক কারুকাজ
জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র বর্ণনা অনুযায়ী, ঘড়িটির মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাদান সাজানো হয়েছে নীল রঙের একটি বেসের ওপর। এতে রয়েছে মণ্ডল-অনুপ্রাণিত নকশা, সূক্ষ্ম ত্রিমাত্রিক খোদাই, নক্ষত্রমণ্ডলের নকশা, হাতে তৈরি ড্রাগনের অবয়ব এবং বিশেষ কাটের মূল্যবান পাথর।
অ্যাস্ট্রোনোমিয়া সিরিজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর যান্ত্রিক কাঠামো ৩৬০ ডিগ্রি কোণ থেকে দেখা যায়। ফলে ঘড়িটির ভেতরের জটিল যন্ত্রাংশ, ঘূর্ণায়মান উপাদান ও নিখুঁত কারিগরি বিভিন্ন দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
রোজ গোল্ডের কেস, নীল অ্যালিগেটর স্ট্র্যাপ
ঘড়িটির সমস্ত উপাদান আবদ্ধ রয়েছে ১৮ ক্যারেট রোজ গোল্ডের কেসের মধ্যে। এর পাশের অংশে রয়েছে একটানা স্যাফায়ার ক্রিস্টালের তৈরি কেস ব্যান্ড। উপরের গম্বুজাকৃতির স্যাফায়ার ক্রিস্টাল গ্লাস ঘড়িটির ভেতরের যান্ত্রিক সৌন্দর্যকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এর সঙ্গে রয়েছে নীল রঙের অ্যালিগেটর চামড়ার স্ট্র্যাপ, যা পুরো নকশায় যোগ করেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। মূল্যবান উপকরণ, জটিল যন্ত্রাংশ ও সূক্ষ্ম কারুকাজ মিলিয়ে ঘড়িটি হয়ে উঠেছে বিলাসবহুল ঘড়ি নির্মাণশিল্পের এক বিশেষ উদাহরণ।
ঘড়িটির দাম কত?
ইথোস ওয়াচ বুটিকসের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘শ্রীরামচন্দ্র লিমিটেড এডিশন’-এর দাম ৪ কোটি ২৫ লাখ ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ঘড়িটির নকশা ও কারিগরি সম্পর্কে জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র বক্তব্য, ‘বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি ঘড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ শ্রী রামচন্দ্র সংস্করণে একসঙ্গে মিশেছে ভক্তি, প্রতীকী ভাবনা এবং উচ্চমানের ঘড়ি নির্মাণশিল্পের নিপুণতা।’
বিলাসিতার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার অনন্য মেলবন্ধন
বিলাসবহুল ঘড়ির জগতে ‘শ্রীরামচন্দ্র’ শুধু সময় দেখার একটি যন্ত্র নয়; এটি ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, প্রতীকী নকশা, মূল্যবান উপকরণ ও জটিল যান্ত্রিক কারিগরির সমন্বয়ে তৈরি এক বিশেষ সংগ্রহযোগ্য সৃষ্টি। বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি ঘড়ি তৈরির দাবি এবং কয়েক কোটি টাকার মূল্য একে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। ভগবান রাম ও হনুমানের অবয়ব থেকে শুরু করে ঘূর্ণায়মান পৃথিবী ও ট্যুরবিলনের কারুকাজ—সব মিলিয়ে ঘড়িটি বিলাসিতা ও আধ্যাত্মিকতার এক বিরল সংমিশ্রণ হিসেবে নজর কাড়ছে।
