Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

সামান্য ব্যথা হলেই পেইনকিলার খেয়ে শরীরের ক্ষতি করছেন না তো?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

সামান্য ব্যথা হলেই পেইনকিলার খেয়ে শরীরের ক্ষতি করছেন না তো?

Advertisement

নিজের ইচ্ছেমতো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসে বাড়তে পারে কিডনি ও লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি, হতে পারে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণও। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়া বিপজ্জনক।

মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা, পিঠে যন্ত্রণা কিংবা শরীর ব্যথা—সামান্য অস্বস্তি হলেই অনেকের প্রথম ভরসা পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ। পরিচিত কারও পরামর্শে কিংবা আগের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতাও কম নয়। কিন্তু সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও এই অভ্যাস শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ব্যথানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক নয়। কোন ওষুধ কতটা নিরাপদ, তা নির্ভর করে ওষুধের ধরন, মাত্রা, কত দিন ধরে খাওয়া হচ্ছে এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন পেইনকিলার খাওয়া থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

পেইনকিলার খাওয়ার ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

১. কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি: আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো কিছু ব্যথানাশক কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষত যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, শরীরে পানির ঘাটতি আছে কিংবা যারা বয়স্ক, তাদের ঝুঁকি বেশি।

২. লিভারের ক্ষতি: প্যারাসিটামল সাধারণত নির্দেশিত মাত্রায় ব্যবহার করলে নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে গুরুতর লিভারের ক্ষতি হতে পারে। একই উপাদান থাকা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খেলে অজান্তেই মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৩. পাকস্থলীতে আলসার ও রক্তক্ষরণ: কিছু ব্যথানাশক পাকস্থলীর সুরক্ষামূলক আবরণে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় সেবনের ফলে আলসার এবং পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৪. রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি: কিছু নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID) রক্তচাপ বাড়াতে পারে, শরীরে পানি জমাতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৫. মাথাব্যথা আরও বেড়ে যাওয়া: ঘন ঘন ব্যথানাশক ব্যবহারের ফলে মাথাব্যথা কমার পরিবর্তে আরও বাড়তে পারে। ফলে ব্যথা কমানোর ওষুধই মাথাব্যথার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।

৬. ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া: রক্ত পাতলা করার ওষুধ, কিছু রক্তচাপের ওষুধ কিংবা অন্য ব্যথানাশকের সঙ্গে নির্দিষ্ট ওষুধের মিথস্ক্রিয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাই একই সময়ে একাধিক ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

কিডনি বা লিভারের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, পাকস্থলীর আলসারে ভোগা মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের ব্যথানাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

নিরাপদ থাকতে কী করবেন?

  • সামান্য ব্যথা হলেই নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খাবেন না।
  • ওষুধের প্যাকেটে লেখা নির্দেশনা মেনে চলুন এবং নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
  • একই উপাদান থাকা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • বারবার ব্যথা হলে শুধু ওষুধ খেয়ে চাপা না দিয়ে ব্যথার কারণ নির্ণয় করুন।
  • দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পেইনকিলার খাওয়ার পর রক্তবমি, কালো পায়খানা, প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা মুখ-গলা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। অতিরিক্ত প্যারাসিটামল খেয়ে ফেললেও উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া জরুরি।

ব্যথানাশক ওষুধ সব সময় ক্ষতিকর নয়। সঠিক ওষুধ, উপযুক্ত মাত্রা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে এগুলো ব্যথা কমাতে কার্যকর। কিন্তু সামান্য ব্যথা হলেই নিজের ইচ্ছেমতো পেইনকিলার খাওয়ার অভ্যাস বিপদের কারণ হতে পারে। তাই ব্যথার কারণ বোঝা, ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৫০ পেরোলেই অর্ধেক পুরুষের প্রস্টেট বড় হওয়ার ঝুঁকি, এই ৬ লক্ষণে সতর্ক হোন

৫০ পেরোলেই অর্ধেক পুরুষের প্রস্টেট বড় হওয়ার ঝুঁকি, এই ৬ লক্ষণে সতর্ক হোন

সামান্য ব্যথা হলেই পেইনকিলার খেয়ে শরীরের ক্ষতি করছেন না তো?

সামান্য ব্যথা হলেই পেইনকিলার খেয়ে শরীরের ক্ষতি করছেন না তো?

ডাবের পানি ক্ষতিকর হতে পারে যাদের

ডাবের পানি ক্ষতিকর হতে পারে যাদের

তেল ছাড়া আলুর পরোটা যেভাবে বানাবেন

তেল ছাড়া আলুর পরোটা যেভাবে বানাবেন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম