ডায়াবেটিসে পায়ের এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে পায়ের সমস্যা অন্যতম, যা অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে অবহেলিত থাকে। ছোটখাটো কাটা বা ফোসকাও পরে গুরুতর ক্ষতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে স্নায়ুর ক্ষতি, রক্ত চলাচলে বাধা কিংবা ক্ষত শুকাতে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
১. ঝিনঝিন করা, জ্বালাপোড়া বা অবশ হয়ে যাওয়া
পায়ে নিয়মিত ঝিনঝিন অনুভূতি, জ্বালাপোড়া কিংবা স্পর্শের অনুভূতি কমে যাওয়া ডায়াবেটিসজনিত পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এ সমস্যায় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হাঁটার সময় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজের মধ্যে পায়ে আঘাত লাগলেও তা টের নাও পাওয়া যেতে পারে। নতুন করে এসব লক্ষণ দেখা দিলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. কাটা, ফোসকা বা ক্ষত না শুকানো
ডায়াবেটিসের কারণে রক্ত চলাচল ও ক্ষত নিরাময় ব্যাহত হলে ছোট কাটা বা ফোসকাও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন ক্ষত না শুকানো, আকারে বড় হওয়া কিংবা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ, রক্ত চলাচল, সংক্রমণ এবং পরিচর্যার ওপর ক্ষত শুকানোর বিষয়টি নির্ভর করে।
৩. ত্বকের রঙ বা তাপমাত্রা বদলে যাওয়া
এক পায়ের ত্বক অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে, নীলচে বা গাঢ় হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য পায়ের তুলনায় ঠান্ডা অনুভূত হওয়া রক্ত চলাচলের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। আবার লালচে ভাব ও অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া প্রদাহ বা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যথা, ফোলা বা ক্ষত থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
৪. পা ফুলে যাওয়া বা আকৃতি বদলে যাওয়া
হঠাৎ পা ফুলে যাওয়া, পায়ের আকৃতি পরিবর্তন কিংবা আগে আরামদায়ক জুতা পরতে অসুবিধা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। ব্যথা না থাকলেও পা অস্বাভাবিক গরম ও ফুলে যাওয়া চারকো ফুট নামের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এতে পায়ের হাড় ও জোড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
৫. ত্বক ফেটে যাওয়া, নখ মোটা হওয়া বা সংক্রমণ
পায়ের শুষ্ক ও ফাটা ত্বক দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। আঙুলের ফাঁকে ছত্রাকের সংক্রমণ, নখ মোটা হয়ে যাওয়া, কড়া এবং অন্যান্য সংক্রমণের লক্ষণও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। নিজে নিজে কড়া বা শক্ত চামড়া কাটতে গেলে ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা সহজে শুকায় না।
প্রতিদিন পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি
গবেষকদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন পায়ের তলা, গোড়ালি, আঙুলের ফাঁক ও নখের চারপাশ পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে আয়না ব্যবহার করা কিংবা অন্য কারও সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। পায়ে নতুন ক্ষত, ফোলা বা অনুভূতির পরিবর্তন দেখা দিলে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিদিন পা পরীক্ষা করা, সঠিক মাপের জুতা পরা, খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলা এবং পা ধুয়ে বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকিয়ে রাখা প্রয়োজন। কোনো লক্ষণ না থাকলেও নিয়মিত পা পরীক্ষা করানো ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

