পারফিউমের ঘ্রাণেই হতে পারে শ্বাসকষ্ট-মাথাব্যথা! জানুন বিপদের লক্ষণ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুগন্ধি বা পারফিউমের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, মাথাব্যথাসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তীব্র সুগন্ধির সংস্পর্শে এলে এসব সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্য অনুযায়ী, পারফিউমের কারণে হওয়া এসব প্রতিক্রিয়ার পেছনে অনেক সময় প্রকৃত অ্যালার্জির পরিবর্তে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের বিরক্তিকর প্রভাব কাজ করে। প্রকৃত অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সাধারণত প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জড়িত থাকে।
পারফিউমের কোনো নির্দিষ্ট উপাদান বা রাসায়নিকের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখালে তাকে পারফিউম অ্যালার্জি বলা হয়। পারফিউমের কোনো উপাদানে থাকা জৈব প্রোটিনের কারণে শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে প্রকৃত পারফিউম অ্যালার্জি দেখা দেয়। তবে সুগন্ধিজনিত অধিকাংশ প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী কৃত্রিম উপাদান ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ।
পারফিউম অ্যালার্জির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিকের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০-এর বেশি। এসব রাসায়নিকের অনেকগুলোর নাম সাধারণ পারফিউম বা কোলোনের বোতলের গায়ে থাকা উপাদানের তালিকায় উল্লেখ করা হয় না।
গুরুতর বিপদ ও প্রতিকার
গুরুতর ক্ষেত্রে মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। এমনকি অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামের প্রাণঘাতী অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
চুলকানি ও নাক বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা কমাতে সিটিরিজিন (জাইরটেক), ডাইফেনহাইড্রামিন (বেনাড্রিল) এবং লোরাটাডিনের (ক্লারিটিন) মতো মুখে খাওয়ার অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ উপকারে আসতে পারে।
শনাক্তকরণ
কোন উপাদানের কারণে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা শনাক্ত করতে চিকিৎসক ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞরা প্যাচ টেস্ট করতে পারেন। এ পরীক্ষায় ত্বকের বিভিন্ন স্থানে অল্প পরিমাণে বিভিন্ন অ্যালার্জেন প্রয়োগ করে প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পারফিউমের কারণে সৃষ্ট অস্বস্তি ও অ্যালার্জির ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে—
- পারফিউমের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিরা কর্মস্থলের কাছে ছোট আকারের এয়ার পিউরিফায়ার রাখতে পারেন। এতে ঘরের ভেতরের বাতাসের মান উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি সহকর্মী ও আশপাশের মানুষকে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা জানানো উচিত, যাতে তারা তীব্র সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।
- সুগন্ধিযুক্ত মোমবাতি, এয়ার ফ্রেশনারসহ অন্যান্য সুগন্ধি পণ্য এড়িয়ে চললেও সম্ভাব্য উদ্দীপক উপাদানের সংস্পর্শ কমানো সম্ভব।
- যাদের সুগন্ধির প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের কর্মস্থলে সুগন্ধিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। বিশেষ করে একই সমস্যায় আক্রান্ত অন্য সহকর্মী থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সুগন্ধিজনিত কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। গলায় টান বা সংকোচনের কারণে শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে এক মুহূর্ত দেরি না করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। এটি গুরুতর অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
সূত্র: সামা টিভি
