খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন কবি আবদুল হাই শিকদার ও মাসুম
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
কবি ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ আয়োজিত ২৯তম বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন ‘সাহিত্যে’ কবি ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং গবেষণায় প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল-মাসুম। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি জেলা সদরের মোক্তারপাড়া এলাকার বকুলতলায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী এ পুরস্কার ঘোষণা করেন। এ সময় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি এনামূল হক পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি কামাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক এটিএম আজাদ পিন্টু, সাংবাদিক মনোরঞ্জন সরকারসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতি বছর পহেলা ফাল্গুনে বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করে আসছে। উৎসবে প্রতি বছর একজন দেশবরেণ্য লেখক, কবি অথবা সাহিত্যিককে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দেশবরেণ্য কবি ও দেশের অন্যতম সংবাদপত্র দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। তিনি ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারিতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর তীরে গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওয়াজেদ আলী এবং মা হালিমা খাতুন। তার পিতা ছিলেন একজন কৃষিবিদ। পিতা-মাতা দুজনই ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ছাত্র।
কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত গবেষণা, সম্পাদনা ইত্যাদি সাহিত্যের সব শাখাতেই অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আবদুল হাই শিকদার। এ যাবত তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ১২০টি। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক। মানবতা, মহান স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদী চৈতন্যের ধারক এই কবির মুখে সবসময় ধ্বনিত হয়েছে প্রেম, প্রকৃতি, বিশ্বমানবতা, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কথা।
তার পুরো পরিবার অংশ নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। স্বপ্ন ছিল চে গুয়েভারা হওয়ার। লেখালেখির শুরু স্কুলজীবন থেকেই। বিকাশ আশির দশকে। পেশা জীবন শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে, এখনও আছেন সেই পেশাতেই। সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি তিনি। মাঝে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন নজরুল ইনস্টিটিউটে। নজরুলের ওপর নির্মাণ করেছেন তিনটি তথ্যচিত্র। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সাহিত্য মাসিক 'এখন'-এর তিনি মূল স্থপতি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিকড় সন্ধানী ম্যাগাজিন 'কথামালার' পরিকল্পক, উপস্থাপক। কবিতার জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অন্যান্য অনেক পুরস্কার।
অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল-মাসুম ১৯৭১ সালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার জালালপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাজীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা এমএ কাদের ছিলেন খ্যাতনামা পুলিশ পরিদর্শক। মাতা কাজী হাজেরা খাতুন গৃহিণী। প্রফেসর ড. আল-মাসুম বিগত দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে বাংলার মুসলমানদের শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতির ওপর গবেষণা করছেন। বাংলা একাডেমি থেকে তার প্রকাশিত 'বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার
অগ্রগতি' (১৮৮৫-১৯২১) ও 'ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা: সমস্যা ও প্রসার' শীর্ষক দুটি গবেষণামলুক গ্রন্থ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ব্যাপকভাবে পঠিত। আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে তিনি সম্প্রতি (২০১৯) প্রকাশ করেছেন ‘নেত্রকোনার শিক্ষার ইতিহাস ও আঞ্জুমান মডেল হাই স্কুল’ শীর্ষক গবেষণামূলক গ্রন্থ। তাছাড়া তার প্রায় ৩৫টি গবেষণামলুক প্রবন্ধ, বুক চ্যাপ্টার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, জাপান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবে এর আগে ৩১ জন কবি-সাহিত্যিককে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কৃতজনরা হলেন- যতীন সরকার, আনিসুজ্জামান, কবীর চৌধুরী, হুমায়ূন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, রাহাত খান, হেলাল হাফিজ, রফিক আজাদ, বুলবন ওসমান, মহাদেব সাহা, জাফর ইকবাল, নাসরিন জাহান, আবু হাসান শাহরিয়ার, সেলিনা হোসেন, সেলিম আল দীন, আলতাফ হোসাইন, আনিসুল হক, জাকির তালুকদার, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ নুরুল হক, আসাদ চৌধুরী, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, খালেদ মতিন (মরণোত্তর), রফিকউল্লাহ খান, মারুফুল ইসলাম, কামাল চৌধুরী,শামসুজ্জামান খান (মরণোত্তর), শামীম রেজা, পাপড়ি রহমান ও গোলাম ফারুক খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি, কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ।

