Logo
Logo
×
   

সাহিত্য

বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন ‘অ্যাসাসিনেশন’

Icon

রাজীব কুমার দাশ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন ‘অ্যাসাসিনেশন’

আমাদের সময় এই রকমের টোটকা বাক্য বিলাস নিয়ে চা দোকান,কিংবা জনাকীর্ণ স্থানে  ইংরেজি জ্ঞানের পণ্ডিত চোস্ত সেজে কেউ কাউকে ভড়কে দিত।

টান টান সিনা নিয়ে আমাদের গ্রামের বার্মা ফেরত যামিনী কেরানি অশীতিপর বৃদ্ধ দাদু যখন বলে বসত, আচ্ছা বলো না দেখি — তোমরা ইংরেজির কেমন চোস্ত? প্রাইমারি স্কুল জীবনে আমাদের বাবা মায়ের সামনে অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত। তখনকার দেশ সময়ে খুন-খারাবি নিয়ে আমাদের তেমন একটা অভিজ্ঞতা নাই বললেই চলে।

ধাঁধা টাইপের করে প্রশ্ন করেন — 

‘গাধার পিঠে গাধা দাঁড় করিয়ে রেখেছি

তারপর সে গাধার উপরে আমি চড়ে বসেছি।

তারপরে সৃষ্টি হয়ে গেছে একটি  জাতি।’

ছোট মনে জটিল-কুটিল চিন্তা কোনোটাই নাই দেখে দাদু হেসে হেসে বলেন, ‘আরে একদিন তোরা হবি সেই বেকুবের দল। মূর্খ উগ্র খুনি জল্লাদ কোতোয়াল।’ বুঝবি সেইদিন। ASSASSINATION মানে গুপ্ত হত্যা।

গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রীগুপ্ত। তিনি আনুমানিক খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে (মতান্তরে ২৪০-২৮০ খ্রিস্টাব্দ) মগধে এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘মহারাজ’ উপাধি ধারণ করেন। তবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

শতভাগ এক না হলেও কাছাকাছি ছিল, গোপনীয় ও গুপ্ত অবস্থান। সম্ভবত এই জনপদে সে সময় হতে সরকারি অফিস খামের উপরে নিচে লেখা হয় গোপনীয়। কিন্তু কি বা কেমন-ই কী গোপনীয় তা জানতে পারবেন না কোনোদিনই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কিংবা তার জনগণ। এই জনপদের হৃদয় মানচিত্রের ভাঁজে ভাঁজে লেখা আছে বহুরূপী স্লোগান। সেখানেই লুকিয়ে পড়েন, আধুনিক গুপ্ত ভর্ৎসিত ভার্সন।

গুপ্ত মুখে গুপ্তচর সাংকেতিক ভাষাসমূহের আধুনিক নানাবিধ সংস্করণ ঐতিহাসিক দলিলই কী বয়ে নিয়ে চলেছেন— এই জনপদের রসময় গুপ্তরা, যাদের মুখে মিষ্টি অন্তরে বিষসমূহ রচিত গোপনীয় কিংবা গুপ্ত বাদে প্রকাশ্য দিবালোকে বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন?

লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .