বিদ্যুৎ সক্ষমতা আছে, উৎপাদন করা যাচ্ছে না যেসব কারণে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট ও বকেয়া বিল পরিশোধ না করাসহ নানা কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না- এমনটা জানানো হয়েছে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে। এছাড়া বৈঠকে বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, বাজেট বরাদ্দ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে অংশ নেন- কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে প্রকল্প সাহায্য (বৈদেশিক উৎস) ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বৈঠকে জানানো হয় বর্তমানে দেশে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। আর প্রকৃত উৎপাদন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট। প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট আর প্রকৃত উৎপাদন আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌর ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত গ্রিডে দেওয়া উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ১০ দশমিক ৫০ টাকা পাবেন।
এছাড়া কমিটি রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে তা আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে।
কমিটি কর্তৃক কিছু প্রশ্ন সংবলিত লিখিত পেপার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় যা আগামী বৈঠকে উত্তরসহ উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
