Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কারা পাবেন, কারা পাবেন না

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কারা পাবেন, কারা পাবেন না

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ফাইল ছবি

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নির্বাচনি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল তার মধ্যে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ভোটে দলটি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এবার তাদের সামনে প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। সে মোতাবেক সরকার এগোচ্ছেও অনেকটা জোর কদমে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বেশকিছু অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিতে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক প্রস্তাব মোতাবেক, ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দিলে এক অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী-প্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বিদ্যমান কিছু কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা একযোগে সুবিধা পাবেন না—এমন বিধিনিষেধও থাকবে।

বর্তমানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্পের তথ্য একীভূত করে নতুন কার্ডে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থবছর হিসাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় ও দ্বৈততা পরিহারের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। এ হিসাবে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। 

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুপারিশ আসতে হবে।

গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার, ১৫–১৮ বছর বয়সি অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। 

পাশাপাশি যেসব পরিবারের ঘরের দেওয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারগুলো এই ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন পরিবার বলতে বোঝাবে—যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, কিন্তু কৃষিনির্ভর। যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে, কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই—তারাও থাকবেন ভূমিহীন পরিবারের আওতায়।

এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্বল্পআয়ের পরিবারভিত্তিক কার্ডধারী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির উপকারভোগী, খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত পরিবারকেও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার। 

কারা পাবেন না

একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার এরই মধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এবং সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। এছাড়া সরকারি তালিকাভুক্ত এমন উপকারভোগী, যাদের তথ্য সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদেরও ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে রাখা হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে নগদ সহায়তা

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ (Cash Support) দেওয়া হবে। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে দেশের হতদরিদ্র (Extremely Poor) জনগোষ্ঠী এবং নারীদের (Women) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই অর্থ সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তি ব্যবহার

অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলটিং করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এ চারটি তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্ভব। ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’–এ এরই মধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে এনআইডি, মোবাইল ফোন বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দ্বৈততা যাচাই করা যাবে। 

এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন থাকায় সরাসরি জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে।

অর্থের সংস্থান কীভাবে

ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পল্লী অঞ্চলের ২৫ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ লাখ ৬ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে মোট ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারকে আলাদাভাবে বরাদ্দ দিতে হবে।

দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা 

প্রাথমিক প্রস্তাবে ৮টি উপজেলায় পাইলটিং বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর পরবর্তী চারদিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ভাতাভোগীদের এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এমআইএস-এ উপকারভোগীর তথ্য এন্ট্রি করা যেতে পারে। এর আগেও এমআইএস ব্যবহার করে করোনা মহামারি ও অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সরাসরি ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এই এমআইএসে মাত্র ৪টি তথ্য এন্ট্রি দিতে হবে—এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না তার একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলে কত অর্থ ব্যয় হতে পারে এবং কীভাবে অর্থ ব্যয় কমানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে অর্থ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণা চালানোর নির্দেশ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণা চালানোর নির্দেশ

সোমবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণার নির্দেশ

সোমবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণার নির্দেশ

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু ১২ অক্টোবর

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু ১২ অক্টোবর

ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে যা বলল বিশ্বব্যাংক

‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে যা বলল বিশ্বব্যাংক

ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আরও পড়ুন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কাল

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কাল

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদে‌শির প‌রিচয় মিলেছে

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদে‌শির প‌রিচয় মিলেছে

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম