Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’: মাহদী আমিন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’: মাহদী আমিন

Advertisement

জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, যেখানে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। 

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বেশ কয়েকটি ডায়ালগ ও কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের একটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থাকলেও, সেখানে প্রকৃতপক্ষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমন্বয় নিয়ে সরাসরি কাজ করার কাঠামো এতদিন ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন করা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাহদী আমিন একথা বলেন। 

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানকার স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং যারা কাজ খুঁজছেন উভয় পক্ষকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করব। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেব। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে (প্রাইভেট সেক্টর) সরাসরি যুক্ত করা হবে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত হবে।

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুফল পাওয়ার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি।

দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তন ও টেকসই নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত ও ভোটাধিকারের ভিত্তি করে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সর্বস্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

​তিনি বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়ন ঘটে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।

​প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ সাতটিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেনি। 

​তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন।

সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কিছুটা সাময়িক সংকট তৈরি হলেও তা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। 

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোর কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাস্তবিক অর্থেই দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে অত্যন্ত আশার কথা হলো প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীদাররা যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। 

পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত হবে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতের আওতায় ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদেই অগ্রাধিকার পাবেন নারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, সরকারের প্রথম বাজেট ছিল অত্যন্ত ব্যাবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধ দিয়ে গড়ে তোলা হবে, যেন তারা সফল উদ্যোক্তা ও দক্ষ কর্মী হতে পারে।

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে 'মিড-ডে মিল' চালু এবং অভিন্ন পোশাকের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরের উন্নত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পাঠদান ম্যানুয়াল যেন গ্রামের স্কুলেও পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাম্য আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাঁদের সম্মান বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

​পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাল খনন কর্মসূচির মতো সর্বজনীন উদ্যোগের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু  ইকোনমি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহদী আমিন

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বৈঠক বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহদী আমিন

ইউরোপে বৈধ পথে জনশক্তি পাঠাতে ইইউর সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠক

ইউরোপে বৈধ পথে জনশক্তি পাঠাতে ইইউর সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠক

প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন

প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আটক ৩

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আটক ৩

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল, দুর্বৃত্তদের খুঁজছে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল, দুর্বৃত্তদের খুঁজছে পুলিশ

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

আরও পড়ুন

পদোন্নতি পেলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন নারী কর্মকর্তা

পদোন্নতি পেলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন নারী কর্মকর্তা

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন মব সহিংসতায় তিন মাসে নিহত ৫৪, আহত ১৪৫

মব সহিংসতায় তিন মাসে নিহত ৫৪, আহত ১৪৫

মুশফিক ফজলের পোস্ট জাইমা রহমানের অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়

জাইমা রহমানের অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বৈঠক বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহদী আমিন

বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু  ইকোনমি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহদী আমিন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম