Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

Advertisement

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই সংকট প্রতিদিন যে নতুন মাত্রায় আমাদের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে—তাতে সরকারের পক্ষে সামনে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা যদি শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে চাই, তাহলে সরকারের চলমান যে সামাজিক নিরাপত্তার কার্যক্রম রয়েছে- সেটি ভীষণভাবে বিঘ্নিত হবে।

তেল আমদানির বিষয়টি সামনে এনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বছরে আমাদের ৭০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করতে হয়। এর ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য ২০৫ টাকা প্রতি লিটার। মূল্য বৃদ্ধির আগে ডিজেলের মূল্য ছিল ১১৫ টাকা প্রতি লিটার। ডিজেলে ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল প্রতি লিটারে ৯০ টাকা। দাম বৃদ্ধির পরও ডিজেলে ৭০ টাকা প্রতি লিটারে ভর্তুকি দিতে হবে। এই দাম বৃদ্ধি না করা হলে বছরে সরকারকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। 

তিনি বলেন, আমাদের প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের রিজার্ভের প্রধানতম খাত। সেই বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রয়কৃত জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার একটা বড় ঝুঁকির মুখে আমরা পড়েছিলাম। সে কারণে সরকারকে এই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। আশা করি, জনগণ এটি বুঝতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, রোববার রাতে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনে লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। রোববার রাত ১২টায় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এ সম্পর্কে বিপিসির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশি দামে তেল কিনে বিপিসিকে মাসে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। তাই সরকার বাধ্য হয়ে কিছুটা হলেও তেলের দাম বাড়িয়েছে।’ অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। বাড়বে সব ধরনের জিনিস পত্রের দাম। এতে মানুষের জীবন মানের ব্যয় বাড়বে। জ্বালানি তেল কিনতে জনগণকে প্রতি মাসে আগের চেয়ে ৯০০ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে।

প্রসঙ্গত, তেলের দাম বাড়ানোর রেকর্ড অনুযায়ী এবারের দাম বৃদ্ধি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের ৬ আগস্ট তৎকালীন সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। পরে জনরোষে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমিয়ে দেওয়া হয়। আর বর্তমান সরকার প্রথম দফায় গত ১৮ এপ্রিল ডিজেল, অকটেন, পেট্রোলসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম ১৫ থেকে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়িয়েছিল।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম