Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

জুলাইয়ের শক্তি বিভক্ত হয়ে গেলে ভারত আসল কার্ড খেলবে: আবদুল হাই শিকদার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

জুলাইয়ের শক্তি বিভক্ত হয়ে গেলে ভারত আসল কার্ড খেলবে: আবদুল হাই শিকদার

যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার। ফাইল ছবি

Advertisement

জুলাইয়ের শক্তি বিভক্ত হয়ে গেলেই ভারত তার আসল কার্ডগুলো খেলবে বলে মন্তব্য করেছেন যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির মধ্যে যদি বিভাজন তৈরি হয়, তবে এই সুযোগে ভারত তার আসল কার্ড খেলবে এবং পেছনের দরজা দিয়ে ফ্যাসিবাদ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে। এই জল্লাদদের প্রতিহত করতে হলে জুলাইয়ের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশ যখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য কাম্য নয়। শত্রু সম্পূর্ণ পরাস্ত হওয়ার আগেই নিজেদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও অনৈক্য আমাদের দুর্বল করে দিচ্ছে। 

উহুদ যুদ্ধের উদাহরণ টেনে যুগান্তর সম্পাদক বলেন, বিজয় এখনো সম্পূর্ণ আসেনি, চারদিকে এখনো ষড়যন্ত্র ও বিপদ বিদ্যমান। তাই এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। 

চাঁদাবাজি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কিছু মৌসুমী নেতাকর্মী দলের নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল দল থেকে এদের বহিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, এদের কঠোরহস্তে দমন করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। গুটিকয়েক দুষ্কৃতকারীর অপকর্মের কারণে সরকারের পুরো অর্জন ও ইমেজ ক্ষুণ্ণ হতে পারেনা।

ভারতের গণমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে সাক্ষাতকার প্রচারের ঘটনা তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, দেশের স্বার্থে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে এবং তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে।  

তিনি রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ট্রেড ইউনিয়নকে দলমতের ঊর্ধ্বে রেখে বিচার-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা যাদের ছিল, রুহুল আমিন গাজী ছিলেন সেই সমাজের শেষ বীর। মিথ্যা মামলায় ১৭ মাস কারাভোগ ও চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা একসঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম, আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। এ সময় তিনি রুহুল আমিন গাজীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

এছাড়া বক্তব্য দেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, বিএফইউজের সহ-সভাপতি একেএম মোহসিন ও খাইরুল বাশার, প্রয়াত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আফ্ফান আবরার আমীন প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম