শেরেবাংলা চেয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলা: আবদুল হাই শিকদার
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন কবি আবদুল হাই শিকদার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক চেয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলা। তিনি ছিলেন বাংলার আত্মার অধীশ্বর। শুধু বাংলাদেশ নয়, বাংলার মাটিও তাকে ভালোবেসেছিল। শেরেবাংলার কাছে বাঙালি মুসলমানের ঋণ বলে শেষ করা যাবে না। ভাসানী-শেরেবাংলার পুণ্যভূমি বরিশাল।
শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট, বরিশাল এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন খাঁটি বাঙালি ও খাঁটি মুসলমানের অনন্য সংমিশ্রণ। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, বাঙালি মুসলমানের সন্তানরা ম্যাট্রিকুলেশনের পর ঝরে পড়ছে। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, খাতায় নাম লেখার কারণে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় প্রকাশ পেত। ফলে তাদের অবমূল্যায়ন করা হতো। এ সমস্যা দূর করতে পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর লেখার পদ্ধতি চালু করেন তিনি। এর ফলে মুসলমান শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের শিকার হয়ে ফেল করা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিক্ষার পথপ্রদর্শক ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম পুরোধা। তিনি বাংলার কৃষকদের মহাজনদের চক্রবৃদ্ধি সুদের হাত থেকে রক্ষা করে শোষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ছিলেন বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণির পিতা।
রাজনৈতিক দলগুলোর শেরেবাংলাকে স্মরণ না করার সমালোচনা করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, শেরেবাংলা আমাদের জাতির ইতিহাস। তাকে অস্বীকার করার অর্থ নিজেদের ইতিহাস ও নিজেদেরই ক্ষতি করা। যে রাজনীতি সাহিত্যবিমুখ, সেই রাজনীতি নিষ্ঠুর। রাজনৈতিক দলগুলোর এ বিষয়ে বোধোদয় হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে শেরেবাংলার উপস্থিতি নেই। এ বিষয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা কোথায়, সেই প্রশ্ন করতে হবে। আমরা যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্মান না করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদেরও কেউ স্মরণ করবে না।
শেরেবাংলার স্মৃতি সংরক্ষণে বরিশালের চাখারের শেরেবাংলা একে ফজলুল হক জাদুঘর আধুনিকায়ন করে সেখানে বিশেষ কর্নার চালুর দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে শেরেবাংলার অবদান ও বীরত্বগাথা গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি কবি আবদুল হাই শিকদারের সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আশির দশকের কবি সিকানদার কবীর, লেখক ও গবেষক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী এবং শেকড় সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নয়ন আহমেদ।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকড় সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি কবি আল হাফিজ এবং কবি ও সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না। এ সময় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন যুগান্তরের ‘সকালবেলার পাখি’ পাতার বিভাগীয় সম্পাদক রফিক লিটন।
জাতীয় কবিতা পরিষদ বরিশালের সভাপতি কবি মুস্তফা হাবিবের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ বরিশালের সাধারণ সম্পাদক কবি মাহবুর রহমান ও বর্ণ একাডেমির পরিচালক মৌমিতা বিনতে জামানের সঞ্চালনায় দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পরে নিবন্ধিত কবিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সরকারি গৌরনদী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারকে শেরেবাংলা স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক, লেখক ও গবেষক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না এবং বরিশাল মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক মীর আদনান আহমেদ তুহিন।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এসএম সাব্বির নেওয়াজ সাগর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেকড় সাহিত্য সংসদ, বরিশালের সাধারণ সম্পাদক কবি পথিক মোস্তফা।
