নিষেধাজ্ঞা অমান্য
মেঘনায় ইলিশ ধরতে গিয়ে জেলে গুলিতে নিহত
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো ও হিজলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশালের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের সময় অভিযানকারী দলের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন নদীতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে কার গুলিতে জেলের মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ ঘটনাস্থলে অভিযান চালানোর বিষয়টিও অস্বীকার করেছে।
নিহত আকতার উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বুধবার রাতে কয়েকজন জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। ভোরের দিকে শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় একটি অভিযানকারী দলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আকতারসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
আকতারকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত অন্য জেলেরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছিলেন। এ সময় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে অভিযানকারী দলের ছোড়া গুলি আকতারের বুকে লাগে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নিহত আকতারের বোন সাথী আক্তারের অভিযোগ, কোস্ট গার্ড ও চাঁদপুর নৌ-পুলিশের গুলিতে তার ভাই আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের কথা বলেছেন।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের কোনো অভিযান ছিল না। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাও সেখানে অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেন।
চাঁদপুর সদর থানা নৌ-পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ওই এলাকায় তাদের কোনো অভিযান হয়নি। অভিযান চালানোর মতো স্পিডবোট ও পর্যাপ্ত জনবলও তাদের নেই। এর আগে অভিযানকারী দলের ওপর জেলেদের একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জেলে নিহত হওয়ার খবর পান তিনি। বুধবার রাতে তাদের কোনো দল নদীতে যায়নি। স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় ছোট ট্রলার দিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য কোনো জেলার দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানান, ভোরে কয়েকজন জেলে নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। কে বা কারা গুলি করেছে, তা তিনি জানেন না।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
