ময়নাতদন্তের পরই তাহসিফের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় জেনে বিস্তারিত জানানো যাবে।
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে বৃহস্পতিবার ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগকে আবার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ জনগণ দেবে না মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। দলটি নিজেদের স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি হিসাবে প্রমাণ করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দলটির নেতারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেফতার, তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকার সফলভাবে কাজ করছে। দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সংসদ-সদস্যের ছেলেকেও গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এতে প্রমাণ হয়, আইন সবার জন্য সমান। অপরাধী কোন দলের, তা মুখ্য নয়। অপরাধ করলে আইনের আওতায় আসতেই হবে। অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশকে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে ‘জনগণের পুলিশ’ হয়ে ওঠার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মানুষের পাশে থেকে সেবা দেওয়া এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ-সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজে মন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের পাঁচ নারীসহ ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
