Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ

জাগরিত চোখে স্বপ্ন দেখার নামই জীবন: কবি আবদুল হাই শিকদার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

জাগরিত চোখে স্বপ্ন দেখার নামই জীবন: কবি আবদুল হাই শিকদার

যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। ফাইল ছবি

Advertisement

যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, জাগরিত চোখে স্বপ্ন দেখতে হবে। সেই স্বপ্নকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে চাই-অটল লক্ষ্য, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রবল আত্মবিশ্বাস। জীবনের পথে কাঁটা থাকবে, প্রতিকূলতার প্রাচীর থাকবে। কিন্তু কোনো প্রাচীরই অতিক্রমের অযোগ্য নয়। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের রক্ত ও আত্মত্যাগে যে শক্তি ও সম্ভাবনার জন্ম হয়েছে তা ধারণ করে মুক্ত, মর্যাদাশীল ও সার্বভৌম বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

শনিবার ঢাকার আশুলিয়ায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফল সেমিস্টার-২০২৬-এর নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। 

মানারাত স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন এবং ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম-২০২৬-এর আহ্বায়ক মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টের সদস্য প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক ও প্রফেসর ড. এম উমার আলী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন ড. আবু আইয়ুব মো. ইব্রাহিম, রেজিস্ট্রার এএইচ আবু সাঈদ, ইংরেজি বিভাগের প্রধান তাসমিয়া মোসলেহউদ্দীন, প্রক্টর মোহাম্মদ নাজমুল হক শিকদার শিবলু, ভর্তি বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের এবং ছাত্র বিষয়ক বিভাগের পরিচালক আবদুল মতিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে- তা অনেকাংশে নির্ভর করছে আজকের তরুণদের ওপর। যারা জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন তাদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে। জুলাই নিয়ে বিভক্তি তৈরি হলে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো আবার সুযোগ নিতে পারে। সাম্প্রতিক বেদনাদায়ক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে যেখানে মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা থাকবে সুরক্ষিত। 

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুল হাই শিকদার বলেন, স্বপ্ন তা নয়, যা মানুষ ঘুমের মধ্যে দেখে; স্বপ্ন সেটাই, যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। স্বপ্ন কোনো নিছক কল্পনার কোনো রঙিন পাখি নয়; বরং জেগে থাকা মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা একটি দীপশিখা। এর আলোয় অন্ধকার পথও এক সময় গন্তব্যের রেখা খুঁজে পায়। তিনি বলেন, নিদ্রিত চোখের অর্থহীন স্বপ্ন মানুষকে কোথাও নিয়ে যায় না। জাগ্রত চোখে দেখা লক্ষ্যই মানুষকে জীবনের কাক্সিক্ষত গন্তব্যের দিকে টেনে নেয়। জাগরিত চোখে স্বপ্ন দেখার নামই জীবন। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের জীবনের নির্দিষ্ট ‘টার্গেট’ ঠিক করতে হবে। যে কাজই করা হোক, মূল গন্তব্য যেন চোখের আড়াল না হয়। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই শিকদার বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে তা ইতিহাসে গভীরভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাথার ওপর গুলির শব্দ, চারপাশে টিয়ার শেলের ধোঁয়া- তার মধ্যেও তৃষ্ণার্ত সহযোদ্ধার জন্য পানি নিয়ে ছুটে যাওয়া কিশোর বা ‘মা, আমি গেলাম’ বলে রাজপথে বেরিয়ে পড়া নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনি স্মরণ করেন। 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথার পর তরুণদের এমন আত্মত্যাগ তিনি আর দেখেননি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জুলাইয়ের তরুণদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের সামনে তিনি শ্রদ্ধাবনত। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শক্তি ও সম্ভাবনাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে এগিয়ে যেতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনকে অর্থবহ করা সম্ভব।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য প্রসঙ্গে আবদুল হাই শিকদার বলেন, নজরুলের রচনায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, শোষণবিরোধী চেতনা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার আকুতি উচ্চারিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য থেকে মানবিকতা, সাম্য, সাহস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা নিতে হবে। তরুণদের সামনে পথ অনেক দীর্ঘ। সেই পথে জ্ঞান যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন বিবেকের আলো। কারণ কেবল মেধাবী মানুষ দিয়ে একটি দেশ বদলায় না; দেশ বদলায় মেধার সঙ্গে মানবিকতা, সাহস ও দায়িত্ববোধ যুক্ত হলে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভাইস চ্যান্সেলর ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম