নামজারি করতে ঘুস দিতে হলো ৯ শতক জমি
যুগান্তর প্রতিবেদন ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারে আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী ৩০ শতক জমির নামজারি করতে গিয়ে ঘুস হিসেবে ৯ শতক জমি লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এখন মামলা করা হচ্ছে।
অনুমোদিত মামলার আসামিদের মধ্যে পঙ্কজ বড়ুয়া ছাড়াও রয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের শ্যালক মফিজুর রহমান, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূরের শ্যালক ইফতেখারুল হাসান এবং পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদিশাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়া।
তবে ওই ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেন মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত থেকে ডিক্রি পাওয়ার পর কক্সবাজার মৌজার ৩০ শতক জমির নামজারি খতিয়ান করার জন্য রেকর্ডপত্র জমা দেন জমির মালিক। কিন্তু নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে ঘুস হিসেবে জমি দাবি করা হয়।
পরে বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে মোট ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন ওই জমির মালিক।
এর মধ্যে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পক্ষে তার শ্যালক মফিজুর রহমানের নামে ৩ শতক, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূরের পক্ষে তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসানের নামে ৩ শতক এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়ার পক্ষে তার দাদিশাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়ার নামে ৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ১৬১/১৬২/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
