তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে যেভাবে স্মরণ করলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ পিএম
মুশফিকুল ফজল আনসারী ও তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক, সিনিয়র সচিব মর্যাদার কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করেছেন।
নিচে পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানাচ্ছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তার প্রয়াণে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মনে পড়ছে—যেখানে তিক্ততা আছে, আবার আছে ভিন্ন এক উপলব্ধিও। পলাতক শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন জোগাতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। তবু একসময় সেই সরকারেরই বিরাগভাজন হন, দুর্নীতির মামলাসহ নানা হয়রানি মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
২০১৫ সালে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরে আমার সাংবাদিকতা নিয়ে বিডিনিউজে পরপর কয়েকটি বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় তো আমাকে কার্যত রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে চিত্রিত করে সেখানে দীর্ঘ একটি রচনা লিখেছিলেন। সে সময় তার সরকারি পদপ্রাপ্তিতে ওই লেখা কাজে দিয়েছে বলে আমার ধারণা। দুটি লেখার লিংক কমেন্টে দিলাম।
এসব নিয়ে কথা বলতে সেসময় সম্পাদককে ফোন করেছিলাম। বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি দ্রুত ফোন রেখে দেন। কিছুদিন পর লন্ডনে তৌফিক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। একের পর এক প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে, এবার তিনি উলটো আমার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এবং বলতে শুরু করেন, এগুলো কেমন রিপোর্ট, মুশফিক তা আপনিও জানেন, আমিও জানি। করতে হয়েছে। এখন নিজেও নানা ঝামেলায় আছি। একই সঙ্গে আমাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, চালিয়ে যান, আপনি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন।
তার সীমাবদ্ধতা বুঝে সেদিন আর কথা বাড়াইনি। তবে ‘আদিষ্ট হয়ে’ সাংবাদিকতার সেই অভিজ্ঞতা মনে থেকে গেছে। একজন সম্পাদকের ব্যক্তিগত উপলব্ধি আর তার প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত বক্তব্যের মধ্যে এমন ব্যবধান সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন রেখে যায়।
আজ তার বিদায়ের মুহূর্তে সেই তিক্ত স্মৃতির পাশাপাশি কথোপকথনগুলো মনে পড়ছে। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
