এআই ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ চায় বাংলাদেশ, ইউনেস্কোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে কার্যকর কৌশল গ্রহণের জন্য ইউনেস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ সুরক্ষায় সংস্থাটির কার্যক্রমের আওতায় এআই ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের ২২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বিবৃতি উপস্থাপনকালে এ আহ্বান জানান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি কাতারের নাসের বিন হামাদ আল হিনজাব।
বিবৃতিতে শিক্ষা সচিব বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ইউনেস্কোকে কার্যকর ও সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাটির কর্মপরিধির মধ্যে এআই ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বাড়ানো এবং প্রাথমিক স্তর থেকেই তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষা সচিব বলেন, আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক গুণাবলিসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় শিক্ষাক্রমে ক্রীড়াকে আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশব্যাপী যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষা সচিব আরও বলেন, মাতৃভাষার গুরুত্ব বজায় রেখে বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা দেওয়াও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন আবদুল খালেক। তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিসর বাড়ানো এবং বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নেও বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
