মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে যেভাবে হবে কর্মী নিয়োগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতেও সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। এ পরিস্থিতিতে কর্মী নিয়োগ, জব অর্ডার সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। কর্মীরা যাতে সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনো ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যেভাবে হবে কর্মী নিয়োগ
১. জব অর্ডার সংগ্রহ
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের উদ্যোগে দেশটির শ্রমবাজার থেকে জব অর্ডার বা কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে।
২. কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ
যে রিক্রুটিং এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির কাছেই থাকবে।
৩. মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যেসব প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রয়োজন, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
৪. বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স
মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই নিজেদের নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।
অর্থাৎ, যে এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে এবং কর্মী নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।
প্রসেসিং এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব কী?
বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। বিএমইটির ছাড়পত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ব্যবস্থায় প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা ও ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের জন্য সহজে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাও এর লক্ষ্য।
তবে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহীদের তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
