সেমিনারে বক্তারা
মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় মুসলিম উম্মাহর সংহতি জরুরি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির নেতারা।
তারা বলেছেন, পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা এবং পবিত্রতা রক্ষা করা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যেকোনো হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে ‘হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, পবিত্র দুই মসজিদ শুধু সৌদি আরবের নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। তাই হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সচেতনতা, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘাত এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, মক্কা-মদিনাসহ বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তৈলশোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তারা।
সেমিনারে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সংলাপ ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, দায়িত্বশীল বক্তব্য, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণ করতে হবে। মুসলিমদের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সম্পর্কের বিষয়ে বক্তারা বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আলেম-উলামা, মসজিদের ইমাম-খতিব, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের হারামাইন শরীফাইনের মর্যাদা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।
পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে মানুষকে সতর্ক করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
বক্তারা সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও কার্যকর ভূমিকা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনার থেকে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক মানুষের জানমালের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন বক্তারা।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মুসলেহুদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী, ড. মুহাম্মাদ নুরুল্লাহ, শাইখ জাহিদ হাসান মাদানী, ড. ইব্রাহিম আব্দুল হালীম ও ড. আব্দুল বাছির প্রমুখ।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঐক্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

-6ad2259656f9c.jpg)