Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

খাদ্যপণ্যের ব্যবসা: প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী লাইসেন্স ফি, কোনটির কত?

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

খাদ্যপণ্যের ব্যবসা: প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী লাইসেন্স ফি, কোনটির কত?

ছবি: এআই জেনারেটেড

Advertisement

স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তনসহ বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানায়, গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় নতুন এই প্রবিধানমালা কার্যকর করা হচ্ছে।

কোন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন লাগবে?

নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রবিধানের তফসিলে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে।

নিবন্ধনের আওতায় থাকা ব্যবসার মধ্যে রয়েছে—

  • রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ ও ফলের রসের দোকান
  • ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান
  • প্যাকেটজাত ও মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
  • মিষ্টির দোকান ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান
  • রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান
  • পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা
  • খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ
  • ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসা
  • খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের নির্ধারিত কার্যক্রম।

কাঁচা ও তাজা খাবার আমদানি এবং অন্যান্য বিশেষ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রবিধানে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী লাইসেন্স ফি কত?

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রিমিসেস বা স্থাপনা লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবিধান অনুযায়ী, উল্লেখিত দুই আয়তনসীমায় ফি হবে— ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ৬০ হাজার টাকা।

তবে ১০০ বর্গমিটারের বেশি থেকে ১০ হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত মধ্যবর্তী আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ফি কত, তা জানতে প্রবিধানমালার সংশ্লিষ্ট তফসিল অনুসরণ করতে হবে।

কোন ধরনের বিশেষ খাদ্যপণ্যে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক?

শুধু সাধারণ খাদ্য ব্যবসা নয়, বিশেষায়িত ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ তালিকায় রয়েছে—

  • স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য
  • বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য
  • প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য
  • নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যপণ্য।

শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত খাদ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রবিধান অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ কত দিন?

নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

আবেদনের জন্য নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফসিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে থাকবে নিবন্ধন নম্বর

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্যাকেট দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোনো অভিযোগ থাকলে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করেও অভিযোগ করা যাবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে কী হবে?

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

তাই আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ব্যবস্থার আওতায় যেসব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান পড়বেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ভাড়া নিয়ে শ্রমিক-ঠিকাদার দ্বন্দ্ব, পাঁচ দিন ধরে বন্ধ খাদ্যশস্য পরিবহণ

ভাড়া নিয়ে শ্রমিক-ঠিকাদার দ্বন্দ্ব, পাঁচ দিন ধরে বন্ধ খাদ্যশস্য পরিবহণ

১৬ ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসার প্রথম নিবন্ধন বিনামূল্যে

নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসার প্রথম নিবন্ধন বিনামূল্যে

সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হোক

দৃষ্টিপাত সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হোক

গাজায় খাদ্যসংকটে ভুগছে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি

গাজায় খাদ্যসংকটে ভুগছে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি

ডাল খাওয়ার সঠিক নিয়ম, যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

ডাল খাওয়ার সঠিক নিয়ম, যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

২০ বছর পরও সুস্থ থাকতে চান? আজ থেকেই বদলান খাবারের অভ্যাস

২০ বছর পরও সুস্থ থাকতে চান? আজ থেকেই বদলান খাবারের অভ্যাস

আরও পড়ুন

জমির নামজারিতে বড় পরিবর্তন, উত্তরাধিকারীদের জন্য নতুন নিয়ম

জমির নামজারিতে বড় পরিবর্তন, উত্তরাধিকারীদের জন্য নতুন নিয়ম

খাদ্যপণ্যের ব্যবসা: প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী লাইসেন্স ফি, কোনটির কত?

খাদ্যপণ্যের ব্যবসা: প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী লাইসেন্স ফি, কোনটির কত?

দুর্গাপূজায় আনসার-ভিডিপির হাতে আটক ৪৯, উদ্ধার ১৫ শিশু

দুর্গাপূজায় আনসার-ভিডিপির হাতে আটক ৪৯, উদ্ধার ১৫ শিশু

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে থাকবেন না রাষ্ট্রদূত, ঢাকা থেকে গেলেন সচিব

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে থাকবেন না রাষ্ট্রদূত, ঢাকা থেকে গেলেন সচিব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম