নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, আবার কি বাড়বে?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাজারে নির্ধারিত দামে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও কোথাও কোথাও তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা।
বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। এরপরও নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। এর মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন খরচ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতারা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এলপিজি কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করতে চায়। ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
বিইআরসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি ও তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তবে শুনানি হলেই দাম বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি
বাজারে এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে একদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আবারও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষের জেরে দেশব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা দাবি করেন, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, গুদামভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তাই কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।
গত ১৪ অক্টোবর বিইআরসির পক্ষ থেকে দাবিগুলো নিয়ে শুনানির আশ্বাস দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
এলপিজির সরবরাহ নিয়ে সংকটের অভিযোগের মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে।
আগামী ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে বিইআরসি। তবে ভোক্তাদের জন্য প্রশ্ন—নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত হবে কি না এবং নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে গ্যাসের দাম আরও বাড়বে কি না।


-6ae06d6531306.webp)