তাহসিফের মৃত্যু: ‘আসল সত্য’ উদঘাটন চায় রাওয়া
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
তাহসিফের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাওয়ার যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ‘আসল সত্য’ উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি-রাওয়া।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে তাহসিফের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাওয়ার নেতারা।
দুপুরে সেখান থেকে বেরিয়ে রাওয়ার যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম বলেন, তারা তাহসিফের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গেছেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি এ ঘটনায় করণীয়র বিষয়ে তাদের কোনো সহায়তা লাগবে কিনা জানতে চেয়েছেন।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের সঙ্গে কথা হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, এই অবস্থার মধ্যে পরিবারের অনেক কিছু করার থাকলেও হয়তো করতে পারে না। আমরা তার কাছে জিজ্ঞাসা করেছি কি কি করার আছে, আমরা কী ধরনের সাহায্য করতে পারি।
উনি আমাদের জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এটার অনুসন্ধান করছেন। মাঠপর্যায়ে প্রত্যক্ষদর্শী, সিসিটিভি ফুটেজ তারা অনুসন্ধান করছে।
অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে তাহসিফের মৃত্যুকে ‘কষ্টকর’ মন্তব্য করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশা করি খুব তাড়াতাড়ি তারা আসল সত্য উদঘাটন করবেন এবং তদানুযায়ী বন্দোবস্ত গ্রহণ করবেন। দেশবাসীর মতো ডিফেন্স কমিউনিটির সব সদস্য আশা করছে অতি সত্ত্বর সত্য উদঘাটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
একইসঙ্গে রাওয়ার তরফে তাহসিফের শোক সন্তপ্ত পরিবারের পাশে থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আল আমিন বলেন, এ ঘটনাকে আমরা ছেড়ে দেব না। আমরা দেখব, মনিটর করব, কীভাবে এর বিচার হয় এবং এর ফ্যাক্ট উদঘাটন হয়। আমরা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চাই এবং যারা ধরা পড়বে তাদের বিচার চাই।
তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দীপ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে শুক্রবার রাতে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই।
রাতেই তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় একটি অভিযোগ দেন, এর ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা হয়। মামলায় কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করলেও ঘটনার দিন মধ্যরাত অব্দি তাহসিফের সঙ্গে থেকে আলোচনায় আসা দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।


