ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ। সাত কারণে তাকে ফের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন এ আবেদন জমা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে এ রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাথমিকভাবে দিশা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করাসহ ৭ কারণের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
ফের রিমান্ডে নিতে ৭ কারণ
১. ঘটনার দিন তাহসিফ সাউরির সঙ্গে সন্দিগ্ধ আসামি দিশা উত্তরা ১৮ নং সেক্টর রুআপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার নামের ফাস্ট ফুডে স্ন্যানস খাওয়ার সময় কোনো আবেগপ্রবণ কথাবার্তা কিংবা বাকবিতণ্ডা হয়েছিল কি না তার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
২. ঘটনার দিন তাহসিফ দিশার 'নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট'-এ কোনো কথাকাটাকাটি কিংবা কবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, সে তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
৩. ঘটনার দিন বা কিংবা আগে দুজনের সম্পর্কের কোনো টানপোড়ন যাচ্ছিল কি না তা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
৪. মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।
৫. অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার ও শনাক্ত।
৬. আলামত উদ্ধার
৭. দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা।
গত শনিবার রাত ২টার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এখন ফের তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন এলো।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দ্বীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দ্বীপ ২৯ অক্টোবর বলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দ্বীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন দ্বীপকে চার দিনের রিমান্ড দেন আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দ্বীপকে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।
এদিকে দ্বীপের দেওয়া তথ্যেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দ্বীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
