তাহসিফ হত্যা: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দিশা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন এ আবেদন জমা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে এ রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, আগের দফায় রিমান্ডে থাকাকালে দিশার কাছ থেকে মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে তাকে পুনরায় সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার পক্ষে আবেদনে সাতটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, এ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়ে মামলার ঘটনার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ঘটনার বিষয়ে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতের বেলা উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ যায়। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যাবেলা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস খায়। মোটরসাইকেল গ্যারেজে তাহসিফ সাউরিসহ দিশা একসঙ্গে যান।
আরও বলা হয়েছে, দিশা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ একত্রিত ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় সাউরির সঙ্গে বাইকে ঘোরাঘুরি করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও তদন্তে দিশা ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যায় এবং নীরবতা পালন করে।
আবেদনে মামলার আরেক আসামির কথা তুলে ধরে বলা হয়, তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে। দিশা ও দ্বীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা প্রয়োজন। এছাড়াও তাহসিফ সাউরির মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশা একাধিকবার কথা বলার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দিশা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করাসহ ৭ কারণের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
