তাহসিফ হত্যা: ৮ কারণে দীপের আবারও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্তে পাওয়া আটটি কারণ উল্লেখ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর একই আদালত দীপের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি এক তরুণী একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী বাসায় ফিরে যান। পরদিন রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখান থেকে তারা তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে গেলে কয়েকজন লোকের উপস্থিতি দেখে আলাদা হয়ে যান বলে দীপ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে সেসব তথ্য তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন।
পুনরায় রিমান্ড চাওয়ার আটটি কারণের মধ্যে রয়েছে, দীপের উপস্থিতিতে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই ও বিশ্লেষণ, তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র গিয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা শনাক্ত করা এবং তাহসিফ, দীপসহ সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও পর্যালোচনা। এ ছাড়া হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার, হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয়ে দীপকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তার সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ।
মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।
অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এ সময় তারা দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।
সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পরে তাহসিফ সাউরির বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।
