দীপের বক্তব্যে অসংগতি, দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলবে কি তাহসিফের মৃত্যুর সূত্র?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের অসংগতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই ঘটনায় গ্রেফতার তাহসিফের কথিত বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকেও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
তবে এখনো স্পষ্ট হয়নি, মধ্যরাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফ ও দীপ কেন গিয়েছিলেন, সেখানে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। মাদক কারবারিদের ধাওয়া, নাকি পুলিশের অভিযানের মুখে পড়ে তারা সেখানে বিপাকে পড়েছিলেন—এমন প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি।
রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে শনিবার রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থেকে তাকে গ্রেফতার করে নৌপুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আগে রিমান্ডে থাকা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন জাবেদ রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে দিশার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাত ১২টার দিকে তাহসিফ তাকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর তাদের মধ্যে আর যোগাযোগ হয়নি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তার কথায় অনেক অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই করতেই দিশাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বার থেকে বেরিয়ে আরও ‘রসদ’ সংগ্রহের জন্য তাহসিফ ও দীপ মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। এলাকাটি মাদকের অন্যতম বড় স্পট হিসেবে পরিচিত। দীপের মাদক সেবনের লক্ষণও পাওয়া গেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তবে তাদের সেখানে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌপুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, দিশার সঙ্গে তাহসিফের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। তাহসিফের মোবাইল ফোনে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
তাহসিফ ও দীপ কেন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন এবং কারা তাদের ধাওয়া দিয়েছিল—এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এখনো সঠিক তথ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বার থেকে বেরিয়ে তাদের আরও কিছু প্রত্যাশা ছিল বলে দীপ জানিয়েছেন। তবে সত্যিই কেউ তাদের ধাওয়া দিয়েছিল কি না, দিয়ে থাকলে তারা কারা—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে এ ঘটনায় দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করে পিবিআই।
পরে শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবা এনায়েত করিম হত্যা মামলা করেন। এরপর দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। শনিবার এ মামলার প্রধান আসামি দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এখন দীপ ও দিশার বক্তব্য যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে তাহসিফের মৃত্যুর পেছনের ঘটনা উন্মোচনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
