তাহসিফ সাউরির মৃত্যু
মাজার বস্তিতে যাওয়ার কারণ খুঁজছে পুলিশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। তবে এখনো রহস্যের জট খোলেনি। বিশেষ করে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের যাওয়ার কারণ, সেখানে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি তুরাগে ঝাঁপ দেন-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। মাদক কারবারিদের ধাওয়া, নাকি পুলিশের অভিযানের মুখে পড়ে এই ঘটনা ঘটেছে, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার তাহসিফের কথিত বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে শনিবার রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থেকে তাকে গ্রেফতার করে নৌপুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৪ দিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, আগে রিমান্ডে থাকা তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তরুণীর তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন জাবেদ রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তরুণীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাত ১২টার দিকে তাহসিফ তাকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তার কথায় অনেক অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই করতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিশাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাহসিফ ও দীপ বার থেকে বেরিয়ে আরও ‘রসদ’র জন্য মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। কেননা ওই এলাকাটি মাদকের অন্যতম বড় স্পট হিসাবে পরিচিত। অন্যদিকে দীপের মাদক সেবনের লক্ষণ পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার পেছনের কারণ জানতে হলে ওই রাতে মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফ ও দীপের উপস্থিতির উদ্দেশ্য বের করা জরুরি। তারা সেখানে কারও সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, নাকি অন্য কোনো কারণে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় লোকজন এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নৌপুলিশ ঢাকা অঞ্চলের বর্তমান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, দিশার সঙ্গে তাহসিফের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাহসিফের মোবাইল ফোনে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
তারা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, কে তাদের ধাওয়া দিয়েছে-এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য আসছে, এজন্য আমরা এখনো সঠিক তথ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে বার থেকে বেরিয়ে তাদের আরও প্রত্যাশা ছিল বলে এখানে এসেছিল বলে দীপ জানিয়েছেন। অন্যদিকে আসলেই তাদের কেউ ধাওয়া দিয়েছিল কিনা, দিয়ে থাকলে তারা কারা! সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।
এর আগে বুধবার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকার ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে এ ঘটনায় প্রথমে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীপকে নিয়ে পিবিআই তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে এবং তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবা এনায়েত করিম একটি হত্যা মামলা করলে দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। শনিবার এ মামলার প্রধান আসামি দীপকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
