Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে নীরব কূটনীতি

ইরানের নেতার ‘ভৌগোলিক সীমানার বাইরে’ মন্তব্যে আতঙ্ক

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই অনেকটা নীরবে চলছে কূটনীতি। মধ্যস্থতাকারীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে আবারও যুদ্ধ শুরু না হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পালটাপালটি হুমকির প্রেক্ষপটে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের নেতার সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে পালটা পদক্ষেপ হিসাবে ইরান যে আঘাত হানবে, তা কোনো ভৌগোলিক সীমানায় সীমিত থাকবে না।

রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পালটাপালটি হামলার প্রস্তুতি চললেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান যোগাযোগ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দিন ধরে চলা আলোচনার পর ইরানের কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের দাবিগুলো কার্যকরভাবে পূরণ করা হলে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। সেই সঙ্গে তারা যুদ্ধের অনিবার্যতা দেখা দিলে আক্রমণের পরিধি বাড়ানোর, এমনকি আগাম হামলা চালানোর প্রস্তুতিও জোরদার করেছে। শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমরা আমাদের অস্ত্রভান্ডার উন্নত করেছি, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠেছি এবং নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি। আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।’ তার এ মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানান, আলোচনা ‘ভালোভাবেই’ চলছে; তবে তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নয় বলে মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় তিনি ইঙ্গিত দেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা হতে পারে। ফ্লোরিডায় নিজের মার-এ-লাগো ক্লাবে আয়োজিত হ্যালোইন পার্টিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় আরও বোমা হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনো হয়তো এক বা দুটি স্থাপনা নিয়ে কাজ বাকি আছে, তবে আমরা ১০ মিনিটের মধ্যেই তা সেরে ফেলতে পারি।’

‘ভৌগোলিক সীমানার বাইরে’ মন্তব্যে আতঙ্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তাৎক্ষণিক ও কোনো ‘ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা’ ছাড়া পালটা হামলার হুমকি দিয়েছেন। মোজতবা বলেছেন, ‘যে কোনো ধরনের’ হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া উচিত। বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এপি জানায়, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে আসা ‘যে কোনো ধরনের ও পর্যায়ের’ হুমকির বিপরীতে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জনসমক্ষে না আসা খামেনি সামরিক প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের সময় এ মন্তব্য করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন।

নীরবে চলছে আলোচনা : শুক্রবার তেহরানে এবং শনিবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে একটি নতুন ও দৃশ্যমান ফল বেরিয়ে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়ার মধ্যবর্তী সময়সীমা কমে এসেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, ইরান আগে সাত দিনের সময়সীমার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা এখন কমিয়ে দুই দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাবি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কিছু ‘ইঙ্গিত’ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি এক্ষেত্রে কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘তবে ইরান বেশকিছু ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো ছাড় দেওয়ার আগেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে অগ্রগতি অর্জিত হোক। সুতরাং, মূল সমস্যাটি হলো পদক্ষেপগুলোর পর্যায়ক্রম এবং দরকষাকষির সক্ষমতা (লিভারেজ)। উভয় পক্ষই চায় অন্য পক্ষ আগে পদক্ষেপ নিক।’

কাতারি এলএনজিবাহী জাহাজে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাত : কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলের সময় তাদের একটি ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর এটি সর্বশেষ হামলার ঘটনা। রোববার এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের মালিকানাধীন তরল প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ ‘আল মায়দা’তে এ আঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হননি। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এবং ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আয়-ব্যয়ের গবেষণা শেষে টিআইবির প্রশ্ন দলগুলোর এত টাকা আসে কোথা থেকে

দলগুলোর এত টাকা আসে কোথা থেকে

বৈজ্ঞানিক পরিচয় শনাক্তের দাবি রাজারহাটে রহস্যময় ‘অচিন গাছ’

রাজারহাটে রহস্যময় ‘অচিন গাছ’

সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে নীরব কূটনীতি

সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে নীরব কূটনীতি

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু মাজার বস্তিতে যাওয়ার কারণ খুঁজছে পুলিশ

মাজার বস্তিতে যাওয়ার কারণ খুঁজছে পুলিশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম