প্রযুক্তি খাতে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোক। ছবি: মন্ত্রণালয়
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ই-কমার্সসহ বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোক। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের বিস্তৃত ডাকঘর নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে ই-কমার্স, পার্সেল ডেলিভারি ও সমন্বিত লজিস্টিকস সেবার কার্যকর কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে
মন্ত্রী সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোক বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দেশের বিস্তৃত ডাক বিভাগের অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স, পার্সেল ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জনসেবার দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
হাইকমিশনার স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ে সিঙ্গাপুর আগ্রহী।
সাক্ষাতে উভয়পক্ষ ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনসেবার আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন।
এ সময় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, ডেস্ক অফিসার ম্রিথিনি টিজিট্রিথারান এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডেভেলপমেন্ট পার্টনার বেঞ্জামিন চু উপস্থিত ছিলেন।

