সঞ্চয়পত্র কেনার আগে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
ছবি: এআই দিয়ে বানানো।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেশের মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্রের চাহিদা রয়েছে। সংসারের বাড়তি আয়, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে সঞ্চয় গড়ে তুলতে অনেকেই সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
তবে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় না রাখলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এমনকি প্রয়োজনের সময় আর্থিক সংকটেও পড়তে পারেন বিনিয়োগকারীরা। তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
জরুরি খরচের অর্থ বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকুন
চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন বা আকস্মিক বিপদের জন্য আলাদা করে রাখা অর্থ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। কারণ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে, এমন অর্থ সহজে উত্তোলন করা যায়—এমন জায়গায় রাখা ভালো।
বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা জেনে নিন
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে মুনাফার হার পরিবর্তিত হতে পারে। নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলে ভিন্ন মুনাফার হার প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ বিষয়ে আগে থেকে ধারণা না থাকলে প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফা পেতে পারেন। তাই কেনার আগে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ও সংশ্লিষ্ট মুনাফার হার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
করসংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে ধারণা রাখুন
সঞ্চয়পত্র থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হয়। এ ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এসব নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী বেশি হারে কর কাটা হতে পারে। এতে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ কমে যায়। তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগেই করসংক্রান্ত নিয়ম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে নেওয়া উচিত।
আর্থিক প্রয়োজন বুঝে স্কিম বেছে নিন
সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফা পাওয়ার পদ্ধতি এক নয়। কোনো স্কিমে প্রতি মাসে, কোনোটি তিন মাস অন্তর আবার কোনোটি মেয়াদ শেষে মুনাফা দেয়। ফলে নিজের আর্থিক প্রয়োজন বুঝে সঠিক স্কিম নির্বাচন করা জরুরি। নিয়মিত সংসার খরচ চালানোর জন্য বাড়তি আয়ের প্রয়োজন হলে এক ধরনের স্কিম উপযোগী হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থ সঞ্চয়ের লক্ষ্য থাকলে ভিন্ন স্কিম বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সব সঞ্চয় এক জায়গায় রাখবেন না
নিজের সব সঞ্চয় শুধু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হলে নগদ টাকার সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ের জন্য অর্থ আটকে থাকার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই আর্থিক সামর্থ্য ও প্রয়োজন বিবেচনায় সঞ্চয়ের একটি অংশ সহজে ব্যবহারযোগ্য রেখে বাকিটা বিভিন্ন মেয়াদের বিনিয়োগে ভাগ করে রাখা ভালো।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু মুনাফার হার দেখলেই হবে না, বরং নিজের আর্থিক সক্ষমতা, অর্থের প্রয়োজন, বিনিয়োগের মেয়াদ এবং করসংক্রান্ত বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা থাকলেই বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

