সঞ্চয়পত্রে মিলবে তিন মাস পরপর মুনাফা, বিনিয়োগ করবেন যেভাবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সঞ্চয়ের টাকা নিরাপদে রেখে প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে। প্রায় ২৮ বছর আগে চালু হওয়া এ সঞ্চয়পত্র দেশের সব শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। ফলে নির্দিষ্ট কোনো পেশা বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যে কেউ নির্ধারিত নিয়মে এতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
পরিবার সঞ্চয়পত্র কিংবা পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতো এটির ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম। বিনিয়োগের পরিমাণ, মুনাফার হার এবং কেনার যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে।
কত টাকার সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মূল্যমান ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ডাকঘর থেকে এ সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।
এ সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ তিন বছর। সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে, এর বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তুলনামূলক কম হারে মুনাফা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আগে অতিরিক্ত মুনাফা দেওয়া হয়ে থাকলে তা মূল বিনিয়োগ থেকে সমন্বয় করা হয়।
সর্বোচ্চ কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে
একক নামে এ সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যুগ্ম নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের জন্যও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে তহবিলের মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ৫০ কোটি টাকা। ফার্মের জন্য বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি টাকা।
এ ছাড়া অটিস্টিকদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, অনাথ আশ্রম, শিশু পরিবার, এতিমখানা এবং প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে।
কারা কিনতে পারবেন
দেশের সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। ব্যক্তির পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, কৃষি ও খামারভিত্তিক নির্দিষ্ট আয়কারী প্রতিষ্ঠান এবং অটিস্টিক, দুস্থ-অনাথ শিশু ও প্রবীণদের সহায়তায় কাজ করা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানও এতে বিনিয়োগ করতে পারে।
মুনাফার ওপর কত কর দিতে হবে
সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হয়। বিনিয়োগকারীর টিআইএন থাকলে মুনাফার ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে কর কর্তন করা হয়।
তবে উৎসে কাটা এ করই চূড়ান্ত করদায় নয়। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী উৎসে কর্তন করা কর সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।
যেসব সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা
তিন মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ এ সঞ্চয়পত্রের অন্যতম আকর্ষণ। অর্থাৎ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রতি তিন মাস পরপর নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র কেনার সময় নমিনি নিয়োগের সুবিধা রয়েছে। ক্রেতার মৃত্যু হলে নমিনি চাইলে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে বিনিয়োগের অর্থ তুলে নিতে পারেন। আবার চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফাও তুলতে পারেন।
পাশাপাশি মেয়াদপূর্তির আগেই সংশ্লিষ্ট ইস্যু অফিসে যোগাযোগ করে স্বয়ংক্রিয় পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিরাপদে সঞ্চয় ধরে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার একটি বিকল্প হিসেবে এ সঞ্চয়পত্র বিবেচনা করতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।
তথ্যসূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর

