jugantor
শেষ দিনে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা
ঢাবি সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

প্রতিপক্ষের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দফায় দফায় হামলা, নারী ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত এবং দিনভর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের শেষ দফা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন ও কেন্দ্রীয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ওই ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ৩৪ হাজার ৫৪৫ জন গ্র্যাজুয়েট ভোট দেন। এর আগে ১৪ ও ২১ সেপ্টেম্বর দু’দফায় ঢাকার বাইরে ৪০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। তিন দফায় সম্পন্ন ওই নির্বাচনের ফলাফল আজ ঘোষণার কথা রয়েছে।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণকালে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভোটার ও ছাত্রদল কর্মীসহ অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। এর বাইরে লাঞ্ছিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী পরিষদ সমর্থিত মহিলা কর্মী ও ছাত্রদল কর্মীসহ আরও ২০ জন। হামলায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ২৫ রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে তিন দফায় অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণের শেষ দিন ছিল শনিবার। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ভোট গ্রহণের আগে থেকেই ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মহড়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ আগেভাগেই নানা প্রস্তুতি নেয়। বিশেষ করে বিভিন্ন স্পট ভাগাভাগি করে হল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। এর ফলে সকাল থেকেই সব কেন্দ্রের গেট দখলে নেয় ছাত্রলীগ। সিনেট ভবনে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পূর্ব গেটের বাইরে অবস্থান নেয় মহসীন হল ছাত্রলীগ, পূর্ব গেটের ভেতরের দখলে ছিল স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগ। টিএসসির পশ্চিম গেটের দখলে ছিল জহুরুল হক হল ও জসীমউদ্দীন হল ছাত্রলীগ। সুইমিং পুলের দখলে ছিল এসএম হল, জগন্নাথ হল, অমর একুশে হল, শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হল।

এর বাইরে নির্বাচনের তৃতীয় প্যানেল ‘স্বতন্ত্র সম্মিলিত পরিষদের’ পক্ষ থেকেও অবস্থান নেয়া হয়। এ সময় প্রত্যেক পক্ষই ভোটারদের মধ্যে দলীয় লিফলেট বিতরণ শুরু করে। ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন হল থেকে মিছিলসহ তারা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ছাত্রদল এবং অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থকদের সরিয়ে দিয়ে জোর করে কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী প্যানেল সমর্থক অন্য কিছু নারী লিফলেট নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিতে চাইলে উভয় পক্ষ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

নির্বাচন চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান দলবলসহ সিনেট ভবন কেন্দ্রে গেলে সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ কর্মী শাহ আলম তাকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদল কর্মীরা বাধা দিলে অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। হামলায় জাতীয়তাবাদী পরিষদের সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. লুৎফর রহমান এবং প্রার্থী হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত অন্যরা হলেন- বঙ্গবন্ধু হলের শরিফ আহমেদ, এফ রহমান হলের সোহাগ, আজিজুল হক জিয়ন, একুশে হলের আলামিন, জিয়া হলের তারেক। তাদের মধ্যে জিয়নকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের অভিযোগ, ছাত্রদল কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মোবারক ও সাধারণ সম্পাদক সুজনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। তারা আরও জানান, হামলার সময় ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট ও সাদা দলের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বাধা দিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার ওপরও চড়াও হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সামান্য সিনেট নির্বাচনেই ছাত্রদল কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালায়। তাহলে জাতীয় নির্বাচনে কী ঘটবে সেটা তো আগে থেকেই অনুমান করা যায়। সিনেট নির্বাচনের অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নারীকর্মী লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, কেন্দ্রটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে এলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী প্যানেলের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়া শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে উভয় অংশের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। নির্বাচনে ভোট দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এরপরও দুপুর পর্যন্ত ওই কেন্দ্রটিতে কিছুক্ষণ পর পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিকালে কেন্দ্রটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, সিনেট ভবনের সামনে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বেলা আড়াইটার দিকে টিএসসি কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী পরিষদের এক নারী সমর্থক ও ভোটারকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার শিকার ওই নারী সমর্থকের নাম শারমীন জেবা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। পরে আহত অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোট গ্রহণের শেষ দিকে সিনেট ভবনের সামনে আবারও ছাত্রদলের এক কর্মীকে পেটায় সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা। আহত ওই ছাত্রদল কর্মীর নাম মুহিবুল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সকালে জাতীয়তাবাদী পরিষদের সঙ্গে ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়ায় তাকে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বচানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এএম আমজাদ বলেন, এ ধরনের নির্বাচনে কিছুটা সমস্যা হয়। সিনেটে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া টিএসসিতে একজন আহত হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা হয়নি।



সাবমিট

শেষ দিনে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা

ঢাবি সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচন
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 
প্রতিপক্ষের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দফায় দফায় হামলা, নারী ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত এবং দিনভর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের শেষ দফা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন ও কেন্দ্রীয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ওই ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ৩৪ হাজার ৫৪৫ জন গ্র্যাজুয়েট ভোট দেন। এর আগে ১৪ ও ২১ সেপ্টেম্বর দু’দফায় ঢাকার বাইরে ৪০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। তিন দফায় সম্পন্ন ওই নির্বাচনের ফলাফল আজ ঘোষণার কথা রয়েছে।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণকালে ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভোটার ও ছাত্রদল কর্মীসহ অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। এর বাইরে লাঞ্ছিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী পরিষদ সমর্থিত মহিলা কর্মী ও ছাত্রদল কর্মীসহ আরও ২০ জন। হামলায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ২৫ রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে তিন দফায় অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণের শেষ দিন ছিল শনিবার। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ভোট গ্রহণের আগে থেকেই ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মহড়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ আগেভাগেই নানা প্রস্তুতি নেয়। বিশেষ করে বিভিন্ন স্পট ভাগাভাগি করে হল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। এর ফলে সকাল থেকেই সব কেন্দ্রের গেট দখলে নেয় ছাত্রলীগ। সিনেট ভবনে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পূর্ব গেটের বাইরে অবস্থান নেয় মহসীন হল ছাত্রলীগ, পূর্ব গেটের ভেতরের দখলে ছিল স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগ। টিএসসির পশ্চিম গেটের দখলে ছিল জহুরুল হক হল ও জসীমউদ্দীন হল ছাত্রলীগ। সুইমিং পুলের দখলে ছিল এসএম হল, জগন্নাথ হল, অমর একুশে হল, শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক হল।

এর বাইরে নির্বাচনের তৃতীয় প্যানেল ‘স্বতন্ত্র সম্মিলিত পরিষদের’ পক্ষ থেকেও অবস্থান নেয়া হয়। এ সময় প্রত্যেক পক্ষই ভোটারদের মধ্যে দলীয় লিফলেট বিতরণ শুরু করে। ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন হল থেকে মিছিলসহ তারা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ছাত্রদল এবং অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থকদের সরিয়ে দিয়ে জোর করে কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী প্যানেল সমর্থক অন্য কিছু নারী লিফলেট নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিতে চাইলে উভয় পক্ষ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

নির্বাচন চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান দলবলসহ সিনেট ভবন কেন্দ্রে গেলে সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ কর্মী শাহ আলম তাকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদল কর্মীরা বাধা দিলে অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। হামলায় জাতীয়তাবাদী পরিষদের সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. লুৎফর রহমান এবং প্রার্থী হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত অন্যরা হলেন- বঙ্গবন্ধু হলের শরিফ আহমেদ, এফ রহমান হলের সোহাগ, আজিজুল হক জিয়ন, একুশে হলের আলামিন, জিয়া হলের তারেক। তাদের মধ্যে জিয়নকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের অভিযোগ, ছাত্রদল কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মোবারক ও সাধারণ সম্পাদক সুজনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। তারা আরও জানান, হামলার সময় ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট ও সাদা দলের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বাধা দিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার ওপরও চড়াও হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সামান্য সিনেট নির্বাচনেই ছাত্রদল কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালায়। তাহলে জাতীয় নির্বাচনে কী ঘটবে সেটা তো আগে থেকেই অনুমান করা যায়। সিনেট নির্বাচনের অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নারীকর্মী লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, কেন্দ্রটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে এলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী প্যানেলের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়া শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে উভয় অংশের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। নির্বাচনে ভোট দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এরপরও দুপুর পর্যন্ত ওই কেন্দ্রটিতে কিছুক্ষণ পর পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিকালে কেন্দ্রটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, সিনেট ভবনের সামনে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বেলা আড়াইটার দিকে টিএসসি কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী পরিষদের এক নারী সমর্থক ও ভোটারকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার শিকার ওই নারী সমর্থকের নাম শারমীন জেবা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। পরে আহত অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোট গ্রহণের শেষ দিকে সিনেট ভবনের সামনে আবারও ছাত্রদলের এক কর্মীকে পেটায় সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা। আহত ওই ছাত্রদল কর্মীর নাম মুহিবুল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সকালে জাতীয়তাবাদী পরিষদের সঙ্গে ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়ায় তাকে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বচানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এএম আমজাদ বলেন, এ ধরনের নির্বাচনে কিছুটা সমস্যা হয়। সিনেটে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া টিএসসিতে একজন আহত হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা হয়নি।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র