Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

Advertisement

Icon

সিরাজুল ইসলাম ও যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করছেন নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা (বাঁয়ে), গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত আসিফ আকবরের গাড়ি -যুগান্তর

Advertisement

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে নানা অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। জনমনে তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও গুলি ছোড়াসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, কোথাও হুমকি-ধমকি আবার কোথাও বা অকারণে ঘটানো হচ্ছে ককটেল বিস্ফোরণ। এছাড়া মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল করে পরিস্থিতি উত্তপ্তের চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দু-একটি স্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য একটাই-জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা। জনমনে আলোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিনক্ষণ সামনে রেখেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে-কারা এমন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতই বা কারা।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ যুগান্তরকে বলেন, একটি কুচক্রী মহল ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়াতে চাচ্ছে। তারা পুলিশ-প্রশাসনের মনোবল ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এই অপচেষ্টা সফল হবে না। তিনি বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সব ধরনের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও উসকানিদাতাকে আইনের আওতায় আনছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সামনের দিনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরালো হবে।

২২ অক্টোবর নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইকে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে প্রচার চালানোর একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিসেম্বরকে টার্গেট করে জনমনে আতঙ্ক এবং আওয়ামী লীগকে নিয়ে আলোচনা তৈরির জন্যই এমন তৎপরতা চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য-সাধারণ মানুষ যেন স্বস্তিতে থাকতে না পারে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে বসে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ সতর্ক আছে। যুগান্তরকে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অপকর্মের বিচার হবে আইন অনুযায়ী। তার মতে, আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই হিংস্র। ২৩ জুন তাদের জন্মতারিখ। আর সেই ২৩ জুনই পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য স্তিমিত হয়েছিল। যাদের স্বাধীনতা ভালো লাগে না, তাদেরই বিচরণ বেশি আওয়ামী লীগে। তারা জাতীয় সংসদের স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বিনা অপরাধে বহু মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে, রক্ষীবাহিনী দিয়ে মানুষ মেরেছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ যুগান্তরকে বলেন, এখন যেসব ঘটনা ঘটছে, তা ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ঘটাচ্ছে; নাকি সরকারের ভেতর থেকে ঘটানো হচ্ছে, সেটি তদন্তের বিষয়। আওয়ামী সন্ত্রাসী বা অন্য কেউ এসব ঘটনা ঘটালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক আতঙ্কের পরিস্থিতি কেবল রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর ডালপালা ছড়িয়ে পড়েছে সংস্কৃতি অঙ্গনেও। শনিবার ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বিশাল সেন্টারের সামনে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় আসিফ অক্ষত রয়েছেন। তবে ভোরের দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো শোবিজ অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চলচ্চিত্রাভিনেতা ওমর সানীসহ অনেকেই এ ঘটনাকে ‘অশনিসংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন।

পুরান ঢাকার হাজারীবাগে ২০ অক্টোবর একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ওইদিন সন্ধ্যায় মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা চালানোর আগে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর ভেতরে ঢুকে তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ল্যাপটপ, রাউটার, এনভিআরসহ প্রায় ৩১ লাখ টাকার মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকার ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সুনির্দিষ্ট কিছু চক্র পরিকল্পিতভাবে সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে একটি চক্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন গুজব, উসকানিমূলক মাইকিং এবং জনমনে ভীতির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। সুযোগ বুঝে দু-একটি জায়গায় অপরাধী ও চাঁদাবাজচক্র, কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশিষ্ট নাগরিক, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের টার্গেট করে ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল ফোন কিংবা বেনামি বার্তার মাধ্যমে এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এগুলো বেশির ভাগই দেওয়া হচ্ছে বিদেশি নম্বর থেকে। তাদের মূল উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া বা মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমকর্মী, সুধী সমাজসহ সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিকের সম্পাদককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দৈনিক সাঙ্গুর প্রতিনিধি আজগর সালেহীকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের মামলা এবং দুর্নীতি মামলার তদন্ত ও তদারকি কর্মকর্তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও খুলনায় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী নেতা বা ক্যাডারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তাদের ব্যক্তিগত নম্বর সংগ্রহ করে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা এমন হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের ছবি এডিট করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, আবার কখনো বেনামি ফোনকলে মামলার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারকে টার্গেট করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে সম্প্রতি দেওয়া এ ধরনের একটি হুমকির অডিও ভাইরাল হয়েছে।

শুধু পুলিশবাহিনী নয়; মাঠ প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের অবৈধ দখল ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিকভাবে তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে।

এদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে খুলনা শহরকে হঠাৎ করেই যেন এক সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করে আলোচনায় আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগীয় এই শহর ও এর আশপাশের জেলাগুলোয় একের পর এক খুন, গুলিবর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবশেষ শনিবার তেরখাদা উপজেলায় প্রকাশ্যে এক স্থানীয় যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর আগে ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে দুজন নিহত হন। এর মধ্যে লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় মায়ের সামনে খুশি বেগম নামের এক তরুণীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিনে আরেকটি ঘটনায় তুষার নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। শনিবার খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের একটি শাখা হিসাবে কমিউনিটি পুলিশিং এখন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, কিছু অপরাধী খুনের শিকার হচ্ছে, আবার কিছু অপরাধী খুন করছে। এসব নিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেউ বলছেন, বল প্রয়োগ করা হোক। বল প্রয়োগ করলে দেওয়া হচ্ছে ফ্যাসিস্ট পুলিশের তকমা। আবার বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় পুলিশ দুর্বল। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ও আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো সুযোগ আমরা দেব না। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ যখনই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যায়, তখন একশ্রেণির পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা ট্যাগ লাগিয়ে বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আবার কোথাও সামান্য শিথিলতা দেখা গেলে জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ দুই মুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ডিএমপি অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি

ভেতরে ছিলেন না কেউ

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। চালকের পেছনের আসন লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে কাচ ভেঙে গেছে। এ সময় গাড়িতে আসিফ ও তার চালক ছিলেন না। শনিবার ভোর ৫টার দিকে দুর্বৃত্তরা রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এদিকে, এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলায় নিজের স্টুডিওতে আসেন আসিফ আকবর। সেখানে তার কয়েকজন বন্ধু ছিলেন। রাত ৩টার দিকে স্টুডিও থেকে বন্ধুরা বেরিয়ে গেলেও আসিফ ভবনটিতে ছিলেন। গুলির শব্দ শুনে ভোরে তিনি নিচে নেমে আসেন। আসিফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় সংগীতাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে। আসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক। এ ঘটনায় আসিফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তদন্তে নেমেছেন।

হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার গুলির খোসা পরীক্ষা করে গুলির ধরন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসিফ আকবরের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, হামলার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান যুগান্তরকে জানান, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে-মগবাজার মোড় থেকে মালিবাগের দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে আসতে দেখা যায়। অটোরিকশাটি বিশাল সেন্টারের সামনে থামে। সেখান থেকে একজন নেমে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর অটোরিকশায় উঠে সে মালিবাগের দিকে চলে যান। হামলাকারীর চেহারা শনাক্ত করা যায়নি। অটোরিকশাটিতে আরও কেউ ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভবনটিতে একাধিক সিসি ক্যামেরা থাকলেও অধিকাংশ অচল হওয়ায় তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, বিশাল সেন্টারের সামনে ও আশপাশে পোশাকধারী এবং সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। তারা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। এ সময় আসিফের আইপি স্টুডিও তালাবদ্ধ ছিল। পাশের কক্ষে কয়েকজনকে দেখা গেলেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বিশাল সেন্টার দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দোকানগুলোর নিজস্ব ক্যামেরা চালু থাকলেও সেগুলোর আওতায় রাস্তার পুরো অংশ পড়েনি। এ কারণে হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার মতো দৃশ্য পাওয়া যায়নি।

‘কালকের মধ্যে মামলা তুলবি, না হলে লাশ পড়বে’

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নামে চাঁদা দাবি

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করার পর বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এক দিনের মধ্যে মামলা তুলে না নিলে কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক ও মামলার বাদী আফসার উদ্দিনের লাশ পড়বে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চরম আতঙ্কে আছেন কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজন।

এদিকে হুমকি দিতে ব্যবহৃত মোবাইলের সিমটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের একটি চা-বাগানের এক নারী শ্রমিকের নামে নিবন্ধিত বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সিমটি সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার একদল দুর্বৃত্ত হাজারীবাগ থানার এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোক পরিচয় দেয়। তারা কার্যালয়ের প্রতি মাসের ভাড়ার চার লাখ টাকা ইমনের লোকদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আসে। ওই সময় বেশ কিছু মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন। এরপর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আফসার উদ্দিনকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বাদীকে বলা হয়েছে, শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে তার লাশ পড়বে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মামলাটির বাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিও তাকে (ওসি) পাঠানো হয়েছে। অডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়টিকেও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

হুমকির বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আফসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে মূল আসামি সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম নিয়ে তাদের নেতৃত্বেই কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়-গুদামে হামলা চালানো হয়েছিল।

বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, হুমকিদাতা সালাম দিয়ে আফসারকে বলছেন, ‘ভাই, মামলার বাদী যে হলেন, আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?’ এ সময় বাদী বলেন, ‘কোনটা ভাই?’ জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘কোনটা আপনি বোঝেন না?’

এরপর ওই ব্যক্তি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি বাদীকে বলেন, ‘কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।’

পরে বাদী এই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘তোর বাপ বলছি।’ এ কথা বলে তিনি আবার গালাগাল করেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকের দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’

এ সময় বাদী নিজে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নন বলে জানান। তখন মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে?’ এরপর হুমকি দেওয়া ব্যক্তি ফোন কেটে দেন।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে’-এই কথা বলে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর শেষে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ও সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয়। তবে এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকালে হাজারীবাগের বড়াইখালীতে এজেআর পার্সেল সার্ভিসের ডিপোতে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিকদার মেডিকেল কলেজের মাঠে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউজের দোতলায় ডিভিআর ও সার্ভার কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। পরে সেগুলো নতুন করে সচল করা হয়েছে। নিচতলায় ব্যবস্থাপকের কার্যালয় এবং কম্পিউটার ও সিসি ক্যামেরার কক্ষেও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে কাজ করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো ওয়্যারহাউজে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা দুটি বড় কাভার্ডভ্যান ভাঙচুর করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এজেআর পার্সেল সার্ভিসের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হামলা ও ভাঙচুরে তাদের প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ৩৫০টি গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪০০ জন চালক এবং ফ্লোরে কাজ করা প্রায় ৪০০ কর্মী রয়েছেন বলে জানান তিনি।

অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হুমকি

অবস্থান আড়ালে ভিপিএন ব্যবহার

‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন’-এমন গুজব ছড়িয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পলাতক নেতাকর্মীরা। তারা ডার্ক ওয়েব থেকে কেনা ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করে অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর এই অপকৌশল রুখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অনেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, সম্প্রতি মোবাইল ফোনে হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অপরাধীরা পরিচয় গোপন রাখতে ডার্ক ওয়েবসাইট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অবৈধ ভার্চুয়াল ফোন নম্বর কিনছে। এরপর অবস্থান আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে। হুমকি দেওয়ার পরপরই নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই অভিনব কৌশলে তারা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন। গোয়েন্দারা বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিরতা তৈরি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এ ধরনের হুমকি পেলেও জনমনে যাতে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়, সেজন্য তা প্রকাশ্যে আনছেন না। তবে অনেকেই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গোয়েন্দাদের ধারণা, ককটেল বিস্ফোরণ বা ঝটিকা মিছিলের চেয়েও ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোকে তারা সহজ ও নিরাপদ মনে করছে। দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থেকেও অনেকে একই প্রক্রিয়ায় পরিচয় আড়াল করে হুমকি দিচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধভাবে ফ্ল্যাট ভাড়া করে আত্মগোপনে থাকা অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, শীর্ষ পলাতক নেতাদের সঙ্গে তারা অত্যন্ত গোপনে অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপে যোগাযোগ রাখতেন এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অভিযান চলছে।

এরই মধ্যে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে মোবাইল ফোনে হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফোনালাপে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু মানবতা রক্ষা কমিটি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ‘গেরিলা বাহিনী’র সভাপতি হিসাবে পরিচয় দেন। তিনি এসপিকে ডিসেম্বরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন এবং রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন।

একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি ও তাদের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। জবাবে এসপি জানান, কোনো নিরীহ ব্যক্তি অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি যুগান্তর। এ বিষয়ে জানতে এসপির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি (সহকারী মহাপরিদর্শক) কামারুম মুনিরা বলেন, এ ধরনের হুমকির অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর, বার্তা, অডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানাতে এবং হুমকির মূল বার্তা বা অডিও সংরক্ষণ করতে অনুরোধ জানান তিনি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে বসে চালাচ্ছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

হামলার আশঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবাসহ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম