ঢাবি বেরোবি জবির ঘটনা নিয়ে যা বললেন আব্দুল কাদের
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কিংবা আজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে আপনি শুধু আজকের ঘটনা দিয়ে বিচার করলে কিংবা সমাধানের পথ খুঁজলে সমাধান মিলবে না। আপনি রংপুরের ঘটনাকে প্রতিরোধ বলে বাহবা দেবেন, আর জগন্নাথের ঘটনাকে হামলা বলে নিন্দা জানাবেন—এমন হেকমত আপনাকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু এই সংকটের সমাধান এনে দেবে না; বরং সংকটকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পরপরই আমি ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতির নতুন রূপরেখা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু করেছিলাম। নতুন সংস্কৃতি বিনির্মাণে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিবন্ধকতা, অসৎ উদ্দেশ্য এবং তাদের কার্যকলাপ নিয়ে সমালোচনা করতাম। তখন অনেকেই বলতেন, আমি বেশি কথা বলি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরাও এসব পছন্দ করতেন না। যাদের বিপক্ষে কথা বলতাম, তারা তো আরও বেশি সমালোচনা করতেন।
আব্দুল কাদের বলেন, আমার মুখ বন্ধ করার জন্য চরিত্রহনন থেকে শুরু করে এমন কোনো প্রচেষ্টা নেই, যা তারা করেননি। কিন্তু আমি থামিনি। কথা বলেছি বলেই হয়তো পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যায়নি। অনেক কিছু প্রশমিত করতে পেরেছি। অবশ্য এতে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে আজকের পরিস্থিতির শঙ্কা থেকেই তখন কথা বলে গেছি।
তিনি বলেন, জুলাই আমাদের সামনে ছাত্ররাজনীতিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। সেই সুযোগ ছিল নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার; ক্ষমতা পেয়ে আধিপত্য বিস্তার বা নিজস্ব সাংগঠনিক স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়। যদি কোনো স্বার্থ হাসিল করতে হয়, তবে তা হবে শিক্ষার্থী, শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণের স্বার্থে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেটা করতে পারিনি। সুযোগ পেয়েই সবাই নিজ নিজ আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা করেছে। এই প্রক্রিয়া কখনোই সঠিক ছিল না। অসৎ উদ্দেশ্যের কোনো পথই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সেটা বুঝেও অনেকেই ক্ষমতার খেলায় মত্ত ছিলেন। তখন আমাদের কথাগুলো অনেকের কাছে বিষাক্ত লাগত। কিন্তু আজ বাস্তবতা অনেকটাই স্পষ্ট।
চলমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রনেতারা সমাধানের পথ না খুঁজে উসকানি দিচ্ছেন, প্রতিরোধের হুমকি দিচ্ছেন, যা মোটেও কাম্য নয়। ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের আলোচনায় বসে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথের সন্ধান করতে হবে। পরিস্থিতি আরও নাজুক হলে তা কারও জন্যই সুখকর হবে না। কারও জন্য সাময়িকভাবে লাভজনক হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য তা হবে অভিশাপ। আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। এসবের জন্য শিক্ষার্থীরা জুলাইয়ে গুলির মুখে দাঁড়ায়নি, এত মানুষ জীবনও দেয়নি। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের আগে অন্তত এ বিষয়টি মাথায় রাখুন।
সবশেষে আব্দুল কাদের বলেন, এই চলমান অস্থিরতা দূর করতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসের নির্বাচিত ছাত্রসংসদের নেতারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতেন। তারা নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ছাত্রসংসদগুলো নিজেদের নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি। তারা নিজেদের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদকে এক করে ফেলেছেন। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার পরিবর্তে একপেশে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। তবে ছাত্রসংসদ ব্যর্থ হলেও এই সংকট থেকে উত্তরণ জরুরি। নেতৃস্থানীয় ছাত্রনেতাদের এখন এগিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আলোচনায় বসতে হবে।
