সাইফুল হক
নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও লাভজনক সরকারি স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেছেন, দেশের লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পদক্ষেপ আত্মঘাতী ও অদূরদর্শী। এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ এবং দখলদারত্ব বন্ধের দাবিতেও এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাইফুল হক বলেন, দেশের জাতীয় অর্থনীতির অতিসংবেদনশীল লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল অস্বচ্ছ ও অযৌক্তিকভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। বিনিয়োগ ও আর্থিক লাভের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা উদ্ভট ও তথ্যভিত্তিক নয়।
তিনি বলেন, বন্দরের ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই তা করা সম্ভব। মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা যায় না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, লোকসান ও ভর্তুকির কথা বলে দেশের জ্বালানি খাতও কি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে?
সাইফুল হক আরও বলেন, ৫৪ বছরেও যদি একটি রাষ্ট্র তার প্রধান বন্দর পরিচালনায় স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে দেশ বা সরকার কীভাবে চলবে?
তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরসহ লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির হাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান। দেশের সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাজার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও দুর্বৃত্তদের কঠোরভাবে দমনের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাইফুল হক বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো অপরাধী বা দুর্বৃত্তকে রাজনৈতিক ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিবেচনা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, অঙ্গীকার অনুযায়ী সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে জনগণ যৌক্তিক সময় দেবে, তবে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দ্রুত যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ভুল পরামর্শে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরকারের সরে আসা দরকার।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে। অন্যদিকে চাঁদাবাজি, জবরদখল, সন্ত্রাস ও মাদকের দৌরাত্ম্যে জনজীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নির্বাচিত সরকারের আমলে তাঁরা এমন পরিস্থিতি দেখতে চান না।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করে বন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। অতীতেও গভীর সমুদ্রবন্দর ও মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তিগুলো আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি অতীতের মতো আগামী দিনেও আন্দোলন গড়ে তুলবে। দেশের সম্পদ রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং মীর রেজাউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা আক্তার, সাইফুর রেজা মামুন, সাইফুল ইসলাম এবং বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদার প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্টির মহানগর কমিটির নেতা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও জামিলুর রহমান ডালিম, ঢাকা মহানগর বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক তুহিন রহমান ও সদস্যসচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি, নারী নেত্রী মরিয়ম আক্তার ও নার্গিস আক্তার লিমা প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
