‘বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণেই গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ঘনীভূত হয়েছে’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘শহীদ স্মরণ সমাবেশে’ বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণেই দেশে আজ গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ঘনীভূত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি জ্বালানির ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের চাষারাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদসহ ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘শহীদ স্মরণ সমাবেশে’ তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদেরা একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, বিশেষ কোন শক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা জীবন বিলিয়ে দেননি।
সাইফুল হক বলেন, ২৪ এর এ অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে মালিকানা প্রতিষ্ঠায় যারা প্যাটেন্ট করার চেষ্টা করছেন তারা এ অভ্যুত্থানের আত্মাকে ধারণ করতে পারেননি, এদের উদ্দেশ্য ভালো নয়।
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত দুই বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, চাকরিচ্যুত, কর্মহীনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের জীবন জীবিকা এখনও নিরাপদ হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো হলেও শ্রমিকদের জন্য এখনও জাতীয় ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠিত হয়নি।
তিনি ভারতের বাংলাদেশ নীতির সমালোচনা করে বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতের বাংলাদেশ নীতির পরাজয় ঘটলেও তা থেকে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা কোন শিক্ষা গ্রহণ করেনি।ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত বাস্তবে দ্বিমুখী নীতি কৌশল অবলম্বন করেছে। মোদি সরকার একদিকে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা হাসিনা কার্ড খেলতে শুরু করেছে।তিনি দেশি-বিদেশি সকল অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করে গণ অভ্যুত্থানের অর্জনকে রক্ষা করতে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, প্রধান বক্তা রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আবু হাসান টিপু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ শিমুল, মীর রেজাউল আলম, নৌ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার আনিসুর রহমানসহ জেলা কমিটির নেতারা।
সমাবেশে বহ্নিশিখা জামালী বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হলেও মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের জীবন এখনও নিরাপদ হয়নি। এখনও নারীর অধিকার ও মর্যাদা বিরোধী অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি নারী বিদ্বেষী সকল অপতৎপরতা আইন করে নিষিদ্ধ করার আহবান জানান।
আকবর খান বলেন, বিএনপি সরকারকে অবশ্যই গণ অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ধারণ করতে হবে।তিনি সংসদের আগামী অধিবেশনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করার আহবান জানান।
আবু হাসান টিপু বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশী শহীদ হলেও তারা এখনও সবচেয়ে বঞ্চিত ও নির্যাতীত।
তিনি বলেন, এর শ্রমিকেরা বাঁচতে না পারলে শহীদদের জীবনদান বৃথা হয়ে যাবে।
সভার সভাপতি মাহমুদ হোসেন বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান জনগণের সকল অংশ ত্যাগ শিকার করলেও গত দুই বছরে এর সুফল আত্মসাৎ করেছে মুষ্টিমেয় কিছু লোক।তিনি বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তি নিশ্চিত করতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি তার লড়াই অব্যাহত রাখবে।
সমাবেশের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।


