শিবিরের রাজনীতি বুঝা শেষ আমার: আম্মার
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
সালাহউদ্দিন আম্মার। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবির কর্তৃক ‘সাথী’ পদ হতে অব্যাহতি ও নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ ফেসবুক পেজে পোস্ট করে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। আম্মারের পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো।
‘শেষ অধিবেশনে ছিলাম!
এসে দেখি আমি নাকি নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিবির থেকে ২৫ সালে বহিষ্কার হইছি!
রাবি শিবিরের একটা ভয়াবহ গুন আছে তারা মিথ্যাকে সত্য বানায় আর সত্যকে মিথ্যা।
আপনাকে বলবে আপনি নারীর সঙ্গে অবাধ মেলামেশা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন, অর্থের বিনিময়ে পদ দিয়েছেন।
এখন সমস্যা হলো ওরা এলিগেশন দেবে আর বলবে এবার প্রমাণ কর তুমি এটা করোনাই।
আচ্ছা আমি যেটা করিনাই সেটার প্রমাণ আমি কিভাবে দেব?
ধরেন হঠাৎ জানতে পারলেন আপনাকে একজন বললো চোর। এখন এই বলা কথা পুরো পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ল এখন আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন আপনি চোর না?
তাও আমি কিছু বিষয় আলাপ দেই-
১. নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা -
আমি আমার ক্যাম্পাস লাইফে কোনো বোনের সঙ্গে এমন কোনো আচারণ করেছি বলে মনে হয় না যেটা ভাইয়ের থেকে অন্যকিছু মিন করবে।
ইভেন আমি রাকসুতে আসা অনেক জুনিয়রদের তুই করে কথা বলি। আমার চরিত্র নিয়ে অন্তত আলাপ দিয়েন না কারন আপনাদের একজন শাখা দায়িত্বশীল আছে যে দীর্ঘদিন প্রেম করে পরে বিয়ে করছে। হাসপাতালে দেখতে গেছিলাম, গিয়ে দেখি তার গার্লফ্রেন্ড তার বুকে হাত বুলাইয়া দিতেছে। সুতরাং শিবির নারী কেলেংকারীর জন্য বহিষ্কার করেনা এটা ক্লিয়ার।
২. চাঁদাবাজির অভিযোগ
সারা দেশে আমাকে নিয়ে একবার মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছিল। ৭৬লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ। এটা এমন ছিল যে জুলাই নিয়ে একটা কনসার্ট করতে প্রশাসনকে অ্যাপ্রোচ করছিলাম। ততকালীন ভিসি স্যার বলেছিলেন এতো টাকা দিয়ে আমাদের আয়োজন করা সম্ভব না। তোমরা যদি চাও আমি রেকমেন্ড করে দিতে পারি সেটা নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলতে পার। আমি তখনো এতো পরিচিত ছিলাম না। বিভিন্ন ব্যাংক, বিভিন্ন কোম্পানির কাছে এই প্রপোজাল লেটারটা নিয়ে যাই। এটা বাইরে এনে একদল সোনার ছেলে ছড়ায় যে আমি চাঁদা চেয়ে চিঠি দিছি।
এই গর্দভদের আইডিয়াও নাই যে চাঁদা চেয়ে কেউ চিঠি দেয় কিভাবে?
সেদিন থেকে আমার নামের আগে যুক্ত হলো চাঁদাবাজ।
৩। অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য-
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন জায়গায় জায়গায় কমিটি দিচ্ছিল তখন রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা একটা কমিটি নিয়ে আসে। তাদের এ্যাজ ইউজুয়াল ধারণা হলো আমার কেন্দ্রীয় মানুষজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক এজন্য আমি এই রাজশাহীর কমিটি এনে দিছি। বাস্তবতা হলো আমি তাদের এই কমিটির আগে পিছে কোথাও ছিলাম না।
এখন তারা ন্যারেটিভ তৈরি করে সেটা প্রতিষ্ঠিত করার ফুল পিআর পলিসি তাদের আছে যেমন আজকেরটাই চিন্তা করেন-
কথা শুরু হইছে অ্যাম্বুলেন্স হাইজ্যাক নিয়ে তারা ঘুরাইয়া কবে ২৫ এ আমাকে বহিষ্কার করছিল সেটা স্ট্যাবলিশ করতেছে।
যাইহোক এবার আসি শিবির সংশ্লিষ্টতার আলাপে!
যদি গুপ্ত/শুপ্ত আলাপ দেন তাহলে আমার থেকে অপেন এ ক্যাম্পাসের অনেক শাখা দায়িত্বশীলও নাই ইভেন রাবি শিবিরের রানিং শিবির সভাপতিও নাই।
যখন এরা পরিচয় দিতে ভয় পাইত, ভয়ে দাড়ি সেভ করে মোচ রেখে নিজেরে বাম পরিচয় দিতো তখন শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করে আসছি আমি।
আমার রাকসু দপ্তরের অ্যাওয়ার্ড শেল্ফে এখনো সসাস (সেরাদের সেরা-০৫) এ অভিনয়ে চ্যাম্পিয়ন হইছিলাম সেই অ্যাওয়ার্ড আছে।
আমি একাধিকবার প্রত্যেক পডকাস্টে বলছি- আপনি আমাকে হাজারবার শিবির বলতে পারেন কারণ আমি শিবিরের ক্রাইটেরিয়াতে পড়ে যাবো ডানপন্থি সংস্কৃতি চর্চার কারণে। এই ডানপন্থি আর কে আছে?
আমি কলরবের সঙ্গেও কাজ করছি।
তারা যে পেপার সামনে আনতেছে এটা তাদের নিজেদের হতেই, তারা চাইলে এটা বানাতে পারেই। আমি তাদের কতোটুকু গুরুত্ব দিতেছি এটাই ফ্যাক্ট।
শিবিরের শাখায় যেদিন একজন গুটিবাজ, নোংরা, ধুরন্দর লোককে মেইন দায়িত্বে যেতে দেখেছি সেদিন থেকেই শিবিরের পলিসি বুঝা শেষ আমার।
শতভাগ সত্য হলো শিবির কোথায় জায়গা পেলে যে ঠিক কি পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা দিতে পারে সেটা সালাহউদ্দিন আম্মারের থেকে বেশি কেউ জানে না।
তারা একাধিক অভিযোগ এনেছে, একটা প্রমাণ আনেনি। শুধু এলিগেশন।
আমি সাংস্কৃতিক এরিয়ার বাইরে নিজের মস্তিষ্ক বিক্রি করে দিয়ে কোথাও থাকিনি এবং আমাকে কখনো রাখতেও পারবে না।
আমি আমার আমলনামা নিয়ে দুনিয়া থেকে যাব এবং যে মিথ্যা অভিযোগগুলো আমার নামে যুক্ত হচ্ছে সেগুলো আমি নিয়ে যাব সেদিনের বিচারের জন্য।
আমি আজ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বললাম!
আমি আজ পর্যন্ত কোনোদিন আনিত অভিযোগগুলোর কোনোটার সঙ্গেই সম্পৃক্ত না। এখন যেটা আমি করিনি সেটার অভিযোগ যদি আমার বিরুদ্ধে দেন তো আমি প্রমাণ কিভাবে দেব?
তাদের আল্লাহ মিথ্যাকে সত্য বানানোর অসীম ক্ষমতা দিয়েছে তবে এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না
আশা করি আজকের পর থেকে দয়া করে কেউ শিবির বলে গালি দেবেন না।’
