দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন: খন্দকার মারুফ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত র্যালিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন- দেশপ্রেম, সততা, অদম্য সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি, পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পৃথক বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ৭৫-এর ৭ নভেম্বর অতন্দ্র প্রহরী হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন। সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। জাতির শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। এই দিন জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। সবাইকে নিয়ে আধুনিক সমৃদ্ধ দেশ গড়তে একদলীয় বাকশালের শৃঙ্খল থেকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলকে মুক্ত করেন। বন্ধ ঘোষিত জাতীয় দৈনিকের প্রকাশনা ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে একটি দল ক্ষমতায় এসে লুটপাট, চুরি-ডাকাতি করে '৭৪-এ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে। তাদের সোনার ছেলেরা দেশকে অস্থিতিশীল ও তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম ও মানবিকতা দিয়ে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। ফ্যাসিস্ট দলটির নেতা যেখানে ব্যর্থ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন।
এই বিএনপি নেতা বলেন, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সকালে রেডিওতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’ তার এই শানিত বক্তব্য জাতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক বার্তা।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করেছে। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিতে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা-মাতার আদর্শ ধারণ করে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমান দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতা দিয়ে পিতার মতোই আগামীর সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সক্ষম হবেন। তিনি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পলাতকরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দেশপ্রেমিক জনগণ এসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিবে।
স্থানীয় বিএনপির এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম।
এ সময় বিএনপি নেতা এমএ লতিফ ভূইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, আ. অদুদ মুন্সী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহউদ্দিন বায়েজিদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, কাউসার আলম সরকার, এম সালাহউদ্দিন সরকার, আরিফ মাহামুদ, আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, জহিরুল ইসলাম, প্রফেসর শহীদুল ইসলাম, ডা. আবদুল কাইয়ুম, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

