মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী
Advertisement
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯০১ সালের ২২ অক্টোবর নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কাছে কাসিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার সাহিত্য সাধনার হাতেখড়ি ছাত্রজীবন থেকেই। তবে পুরোদমে সাধনা শুরু হয় ত্রিশের দশকের গোড়ার দিকে মোহনগঞ্জ হাইস্কুলে শিক্ষকতা করার সময় থেকে। তিনি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে লোকসাহিত্য সংগ্রহ করেন এবং সেসবের ওপর গবেষণা করেন। লোকসাহিত্যবিষয়ক তার তিনটি মূল্যবান গ্রন্থ হলো : লোকসাহিত্যে ছড়া, লোকসাহিত্যে ধাঁধা ও প্রবাদ এবং বাংলাদেশের লোকসংগীত পরিচিতি।
‘পূর্ব বাংলার লোক-সাহিত্য’ শীর্ষক প্রবন্ধে মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী বলেছেন, ‘বিশ্বের জাতিনিচয়ের লোক-সাহিত্যের ভাব ও বিষয়বস্তু এবং চিন্তাধারা পর্যালোচনা করিলে জানা যায়, উহাদের মধ্যে আছে এক সর্বজনীন মানবীয় আবেদন। ইহারা কোনদিনই আবদ্ধ নয় ভৌগোলিক সীমার গণ্ডীর মধ্যে। এরূপ হইবার কারণ অনুসন্ধান করিলে আমরা উপলব্ধি করিতে পারি যে, বিশ্ব মানবজাতি একই আদিম মাতা-পিতার সন্তান (from the same blood); কালক্রমে বংশবৃদ্ধির ফলে ছড়াইয়া পড়িয়াছে নানা স্থানে, কিন্তু তাহাদের মূল সুরে ধ্বনিত হইতেছে ঐক্যের রাগিণী। স্থান-কাল-পাত্রভেদে মানব-মানবীয় স্বাভাবিক বৃত্তিসমূহের বিকাশে তারতম্য পরিলক্ষিত হইলেও ইহাদের মূল উৎস একই কেন্দ্রে আবদ্ধ। পক্ষান্তরে নানা চিন্তাভাবনার মানব-মানবী উচ্চস্তরে আরোহণ করিলে তাহারা মিলিত হয় একই চিন্তার সমতল ক্ষেত্রে। এইভাবে বিচার করিয়া দেখিলে আমরা বুঝিতে পারি যে লোক-সাহিত্য বিশ্ব মানবের; ইহা কোনো জাতিবিশেষের একচেটিয়া সম্পদ নয়।’
চল্লিশের দশকে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী রচিত ‘ময়মনসিংহের ভূগোল’ নামক বইটি তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার প্রাইমারি স্কুলগুলোতে পড়ানো হতো। তার রচিত আরও দুটি পাঠ্যপুস্তক হলো আমার পড়ার বই (প্রাইমারি, ২য় শ্রেণি) এবং প্রাইমারি স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান (প্রাইমারি, চতুর্থ শ্রেণি)। পাঠ্যপুস্তক দুটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-খিদমত’ উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
