|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আজ কবি তালিম হোসেনের জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯১৮ সালের ২৯ অক্টোবর নওগাঁ জেলার বদলগাছীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অনুবাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী। উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে তিনি তৎকালীন ‘মাহে নও’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। তার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে নজরুল একাডেমি। তিনি ১৯৩৬ সালে নিজ জন্মভূমি নওগাঁর বদলগাছীর চাকরাইল গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন ‘রিজওয়ান লাইব্রেরি’।
মানবতাবাদী এবং ইসলামের সাম্য, শান্তি ও কল্যাণের আদর্শে বিশ্বাসী এই কবি ইসলামি আদর্শ, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের রূপকার। তিনি তার রচনায় ইসলামি আদর্শ, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি তালিম হোসেন কবিতা লেখা শুরু করেন চল্লিশের দশকে, যদিও তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিশারী’ বেরিয়েছে অনেক পরে পঞ্চাশের দশকে, ১৯৫৬ সালে। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো ‘দিশারী’ (১৯৫৬), ‘শাহীন’ (১৯৬২), ‘নূহের জাহাজ’ (১৯৮৩)। তার অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘স্বর্গচারণ’ (১৯৫৯) ও ‘দানবীর এন্ড্রুর কার্নেগী’ (১৯৬২)। ছোটদের জন্য তার লেখা বই ‘ধাইকিড়ি ধাইকি’। পারিবারিক জীবনে তালিম হোসেনের স্ত্রী মাফরুহা চৌধুরী ছিলেন দৈনিক বাংলা পত্রিকার মহিলাবিষয়ক পাতার সম্পাদিকা। তাদের তিন মেয়ে শবনম মুশতারী, পারভীন মুশতারী ও ইয়াসমিন মুশতারী খ্যাতনামা নজরুল সংগীত শিল্পী। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি তালিম হোসেন ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ এবং নজরুল একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
কবি তালিম হোসেন ১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
