স্বপ্নের টুঁটি চেপে দুই শুটারের দেশত্যাগ
Advertisement
মোজাম্মেল হক চঞ্চল
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের শুটিংয়ে যখন নতুন প্রজন্মকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে, ঠিক তখনই উদ্বেগজনক খবর। জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত দুই শুটার অর্ণব শারার ও শোভন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। অর্ণব জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন।
ফেডারেশন কিংবা কোচ-কেউই জানেন না তার অবস্থান। সপ্তাহখানেক আগে বাবার নির্বাচনের জন্য ক্যাম্প থেকে ছুটি নিয়েছিলেন অর্ণব। এমনটাই জানালেন ভারতে অবস্থানরত জাতীয় শুটিং কোচ শারমিন আক্তার। অর্ণবের কয়েকজন সতীর্থের দাবি, ‘দুজন আমেরিকা গেছেন। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ।’
অর্ণবের হোয়াটসঅ্যাপে বারবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। শুটিংয়ের মতো সংবেদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিনির্ভর ক্রীড়ায় খেলোয়াড়ের ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ক্যাম্প, অনুশীলন সূচি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন শুটারের অবস্থান। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দুজন সম্ভাবনাময় শুটারের দেশের বাইরে চলে যাওয়ার খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের মতে, সমস্যা শুধু দুজন খেলোয়াড়কে নিয়ে নয়, বরং এটি দেশের শুটিং ব্যবস্থাপনায় বড় একটি প্রশ্নচিহ্ন। খেলোয়াড়রা যদি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, শিক্ষা বা পেশাগত কারণে দেশের বাইরে যেতে বাধ্য হন, তবে সেটি নীতিগত আলোচনার দাবি রাখে।
আবার যদি কোনো যোগাযোগ ঘাটতি বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থেকে এমন প্রস্থান ঘটে, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের শুটিং দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অর্থনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এ বাস্তবতায় প্রতিভাবান শুটারদের ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। অর্ণব ও শোভনের সম্ভাব্য প্রস্থান সেই চ্যালেঞ্জকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন সবচেয়ে জরুরি হলো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা-খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যেমন, তেমনই সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের কাছে থেকেও। নীরবতা এখানে সমাধান নয়। কারণ, প্রতিটি অনিশ্চিত প্রস্থান ভবিষ্যতের আরেকটি প্রতিভাকে অনুপ্রাণিত নয়, বরং নিরুৎসাহিত করতে পারে। (আগামীকাল সমাপ্য)।
