Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

বিশ্বকাপের তারকা, তারকার বিশ্বকাপ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দেম্বেলে

Advertisement

রিফাত হোসেন লিয়ন

রিফাত হোসেন লিয়ন

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দেম্বেলে

২০১৮ বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। ছবি: এপি

Advertisement

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়েই আসন্ন বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। তবে এবার তার সামনে শুধু বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যই নয়, রয়েছে ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়ার সুযোগও।           

বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করে পিএসজির সমতায় ফেরার পথ তৈরি করেন দেম্বেলে। পরে টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখে ফরাসি ক্লাবটি। সাম্প্রতিক চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে এটি ছিল দেম্বেলের ষষ্ঠ গোল, যা তার দুর্দান্ত ফর্মেরই প্রমাণ।     

এখন তার লক্ষ্য ফিফা বিশ্বকাপ। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে যদি ফ্রান্স শিরোপা জেতে, তাহলে দেম্বেলে হয়ে উঠবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি দুইবার ফিফা বিশ্বকাপ এবং দুইবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কীর্তি গড়বেন। 

বর্তমানে ২৯ বছর বয়সি দেম্বেলে এর আগেও বিশ্বকাপের সাফল্য ও হতাশা—দুইয়েরই স্বাদ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। আবার ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়। 

অনন্য এক ডাবলের হাতছানি

দেম্বেলে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। এর সঙ্গে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ শিরোপাও রয়েছে তার ঝুলিতে। ফলে উত্তর আমেরিকায় আরেকটি বিশ্বকাপ জিততে পারলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুইবার করে এই দুটি সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবেন তিনি।

ফুটবল ইতিহাসের অনেক কিংবদন্তি এই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেও তা স্পর্শ করতে পারেননি। ব্রাজিলের কাফু ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন এবং ২০০৭ সালে এসি মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জেতেন। অন্যদিকে রবার্তো কার্লোস রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনটি ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ জিতেছেন মাত্র একবার ২০০২ সালে। 

ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানেও এ রেকর্ডের খুব কাছে পৌঁছেছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি ২০১৮ বিশ্বকাপও জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ফ্রান্সের পরাজয়ের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা তার অধরাই থেকে যায়। 

বিশ্বকাপে গোলখরা ভাঙার অপেক্ষা

অবাক করার মতো হলেও, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি দেম্বেলে। তিনি মোট ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন, কিন্তু একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে সক্ষম হননি। 

তবে বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গোলখরা কাটানোর সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ক্লাব পর্যায়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, ফ্রান্সকে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপাও এনে দিতে পারেন এ তারকা ফরোয়ার্ড।

ইতিহাসের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা উসমান দেম্বেলের জন্য তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়।

ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান 

সিনিয়র ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত উসমান দেম্বেলে মোট ৪৫৮ ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ৪০০ ম্যাচ ক্লাবের হয়ে ও ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৫৮টি ম্যাচ। 

ফ্রান্সের হয়ে ৫৮ ম্যাচে দেম্বেলে করেছে ৭ গোল। তবে ২ বিশ্বকাপ খেলে এখনো গোলের খাতা খুলতে পারেনি এ ফরাসি তারকা। 

এছাড়া সিনিয়র ক্লাব ক্যারিয়ারে রেনেস, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে মোট ৪০০ ম্যাচে করেছেন ১২৩ গোল।       

দেম্বেলে তার ক্যারিয়ারে ২০১৮ এর রাশিয়া বিশ্বকাপ, পিএসজির হয়ে টানা ২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১৫টি শিরোপা জিতেছেন।  

শিরোপা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে ক্যারিয়ারে ব্যালন ডি অর, ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার, লিগ ওয়ানের সেরা ফুটবলার, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা ফুটবলার ও লিগ ওয়ানের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন দেম্বেলে।

এবারের বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক। এ গ্রুপে ফ্রান্সকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হলেও নরওয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়াও গ্রুপে সেনেগাল ও ইরাক যে কেউ অঘটনের জন্ম দিতে পারে।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম