ভাঙা হাত নিয়েই ফাইনালে ১১ সেভ, চিরস্থায়ী ক্ষতির হয়ে গেছে মার্তিনেজের
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে যেন একাই লড়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনোদের শট একে একে ১১ বার সেভ করেছিলেন তিনি। এবার সেই ম্যাচ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন সে ম্যাচ তো বটেই, বিশ্বকাপজুড়েই তিনি খেলেছেন হাতের ভাঙা আঙুল নিয়ে। সে কারণে এখন সেই আঙুলে চিরস্থায়ী ক্ষতিও হয়ে গেছে।
ক্ষতিটি হয়েছে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের ডান হাতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। সেখানে ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন ব্যাপারটি। বোঝা যাচ্ছিল, তিনি ডান হাতের আঙুলগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেন না। তার অনামিকা আঙুল আংশিক খোলা থেকে যায়। তিনি জানিয়েছেন, এই ক্ষতি চিরস্থায়ী।
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, আঙুলটি সরে গিয়েছিল আর ভেঙেও গিয়েছিল। এখন হাড়টি এমন জায়গায় বসে আছে যে আঙুল পুরোপুরি বন্ধ হয় না। তার কথায়, বাকি জীবন এভাবেই থাকবে। রসিকতা করে তিনি বলেছেন, তিনি আর কখনো কাউকে ঠিকমতো ঘুষি মারতে পারবেন না।
আঙুলের ক্ষত শুরু ২০২৬ সালের মে মাসে। আস্টন ভিলার সঙ্গে ফ্রাইবুর্গের ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে মার্তিনেজ ওয়ার্ম-আপ করছিলেন। সে সময় তার ডান হাতের অনামিকা ভেঙে যায়।
তবু তিনি ওই ম্যাচের পুরো সময় খেলেন। ভিলা ম্যাচটি জেতে ৩-০ গোলে। পরে বিশেষজ্ঞরা তাকে জানান, ঠিকমতো সুস্থ হতে হলে অস্ত্রোপচার দরকার। অস্ত্রোপচার না করলে আঙুল স্বাভাবিকভাবে জোড়া লাগবে না। এতে খেলার সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে। মার্তিনেজ অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য প্রস্তুত থাকতে চেয়েছিলেন।
চোট সামলাতে সামলাতেই তিনি টুর্নামেন্টে যান। শুরুতে আলাদা অনুশীলন করেন। প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে হাতে সুরক্ষামূলক স্প্লিন্ট বা বদলানো গ্লাভ পরে খেলেন।
আর্জেন্টিনার পুরো অভিযানেই তিনি খেলেছেন। দল ফাইনালে ওঠে, যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল স্পেন। সেই ফাইনালে তিনি একে একে ১১টি সেভ দিয়েছিলেন। তবে তাতেও লাভ হয়নি। আর্জেন্টিনা ম্যাচটা হেরেছিল ১-০ গোলে। তার আগে গ্রুপ পর্বে তিনি ক্লিন শিট রাখেন।
অস্ত্রোপচার না করানোর সিদ্ধান্তটি তাকে খেলার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু হাতে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেছে তার।
