Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

যে ৬ কারণে মরক্কোর বিপক্ষে এমন দশা হলো ব্রাজিলের

Advertisement

নেয়ামত উল্লাহ

নেয়ামত উল্লাহ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

যে ৬ কারণে মরক্কোর বিপক্ষে এমন দশা হলো ব্রাজিলের

সংগৃহীত

Advertisement

বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-তে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। তবে এই ১-১ স্কোরলাইন মোটেও ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মাঠের পারফরম্যান্সের আসল চিত্র তুলে ধরতে পারছে না। পুরো ম্যাচেই ব্রাজিল দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে ছিল। 

হেক্সা মিশন নিয়ে বিশ্বকাপে আসা দলটির এমন পারফর্ম্যান্সের পেছনে আছে একাধিক কারণ। ট্যাকটিকাল কারণ যেমন আছে, মানসিকতার সমস্যাও আছে এমন পারফর্ম্যান্সের নেপথ্যে। কী সেসব কারণ, চলুন দেখে নেওয়া যাক—

১. মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণের অভাব
ম্যাচের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ব্রাজিলের মাঝমাঠ। মরক্কো বারবার অবিশ্বাস্য সহজে ব্রাজিলের মিডফিল্ড লাইন ভেদ করেছে। বিটুইন দ্য লাইনে মরক্কো স্পেস পেয়েছে বেশ, কিশোর আইয়ুব বুয়াদি এবং বিলাল এল-খান্নৌস ছন্দময় পাস খেলে গেছেন অনায়াসে। কাসেমিরো এই ম্যাচে ছিলেন সম্পূর্ণ অকার্যকর; প্রেস ভাঙতে, বল পুনরুদ্ধার করতে, কিছুতেই তাকে দেখা যায়নি। তার এতটাই বাজে পারফরম্যান্স হয়েছিল যে হাফটাইমেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ কার্লো আনচেলত্তি

২. পজিশনের ভুলে গোল হজম
ব্রাজিলের গোল হজমের দৃশ্যটি ছিল কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত হতাশার। লুকাস পাকেতা মিডফিল্ডে বল হারান। এরপর ব্রাহিম দিয়াজ ইসমাইল সাইবারিকে থ্রু-বল দেন এবং সেন্টার-ব্যাক মারকিনিয়োস ও গাব্রিয়েল দুজনেই ছিলেন অপ্রস্তুত। দুজনের মাঝে ফাঁকা জায়গা ছিল বেশ, হাইলাইন সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় গতি দুজনের কারোই ছিল না। এটি একটি মৌলিক ডিফেন্সিভ ভুল, যা এই মানের দলে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. গোলকিপার আলিসনের বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত
সাইবারির গোলের মুহূর্তে গোলকিপার আলিসনের পোস্ট থেকে বেরিয়ে আসার টাইমিং ছিল সম্পূর্ণ ভুল। তার এই অসময়ের চার্জ পুরো পরিস্থিতিটিকে আরও সহজ করে দিয়েছিল সাইবারির জন্য, যিনি শান্তভাবে বল লব করে জালে পাঠান। তিনি পেছনে থাকলে শট নিতে আরেকটু ভাবতে হতো সাইবারিকে, পেছন থেকে ডিফেন্ডাররাও তাকে ট্যাকল করার সুযোগ পেতেন। তবে তিনি এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি হয়ে যায় আরও কঠিন।

৪. প্রেসিং স্ট্র্যাটেজি ব্যর্থ
আনচেলত্তি নিজেই স্বীকার করেছেন যে মরক্কো বারবার ব্রাজিলের প্রেস ভেঙে বিপজ্জনক কাউন্টার-অ্যাটাকে গেছে। ব্রাজিল হাই প্রেস দিতে গিয়ে বারবার ফাঁদে পড়েছে। মরক্কো ধৈর্যের সঙ্গে ফ্ল্যাঙ্ক থেকে বল সামনে নিয়ে গেছে, হাকিমি এগিয়ে গেছেন ডান দিক থেকে এবং এল-খান্নৌস ব্রাজিলকে বিপদে ফেলেছেন বাম দিক থেকে। ব্রাজিলের উইং-ব্যাকরা রক্ষণে এবং আক্রমণে দুই দিকেই যথেষ্ট কভারেজ দিতে পারেননি।

৫. আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব
ব্রাজিলের সমতাসূচক গোলটি এসেছে একেবারেই ব্যক্তিগত প্রতিভার ঝলক থেকে। এতে দলগত কৌশল ছিল অনুপস্থিত। শুধু কি এই গোলে, পুরো ম্যাচেই তো এমন কিছুর দেখা মেলেনি!

ভিনি জুনিয়রের অসাধারণ একটি মুহূর্ত পুরো প্রথমার্ধের বাজে ফুটবলকে ঢেকে রেখেছে। ইগোর থিয়াগো ১৪ মিনিটে সহজ হেডার মিস করেছেন। দলগতভাবে স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্রাজিলকে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

৬. মানসিক অস্থিরতা ও নার্ভাসনেস
আনচেলত্তি নিজেই বলেছেন দল শুরুতে ‘নার্ভাস’ ছিল। বলের দখল বারবার হারানো, অপ্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জে বাজে সিদ্ধান্ত, কিংবা গোলরক্ষক আলিসনের এগিয়ে আসা… এগুলো মানসিক প্রস্তুতির অভাবের লক্ষণ। এসব কারণেই ব্রাজিল খাবি খেয়েছে মরক্কোর বিপক্ষে।

এতসব ভুলের রাতে ব্রাজিলের পরিস্থিতিটা আরও খারাপ হয়নি ভিনির প্রতিভা গুণে। তবে টুর্নামেন্ট জিততে হলে ব্রাজিলকে দলগতভাবে অনেক উন্নতি করতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম