Logo
Logo
×

Advertisement

খেলা

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে ‘আলবিসেলেস্তে’ ও ‘সেলেসাও’ বলা হয় কেন, এলো কোথা থেকে?

Advertisement

মোহাম্মদ আসিফ

মোহাম্মদ আসিফ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে ‘আলবিসেলেস্তে’ ও ‘সেলেসাও’ বলা হয় কেন, এলো কোথা থেকে?

বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।

Advertisement

বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। মাঠের লড়াই যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনি এই দুই দলের পরিচিতিও আলাদা। ফুটবলপ্রেমীরা আর্জেন্টিনাকে ‘আলবিসেলেস্তে’ এবং ব্রাজিলকে ‘সেলেসাও’ নামে ডাকতে অভ্যস্ত। ধারাভাষ্য, সংবাদ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সবখানেই এই নাম দুটি নিয়মিত শোনা যায়। কিন্তু এই নামগুলোর উৎপত্তি কোথা থেকে? কেনই বা এই দুই দলকে এমন নামে ডাকা হয়?

আর্জেন্টিনার নাম কেন ‘আলবিসেলেস্তে’?

‘আলবিসেলেস্তে’ (La Albiceleste) শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ ভাষা থেকে। এটি মূলত দুটি শব্দের সমন্বয়—‘Albi’, যার অর্থ সাদা এবং ‘Celeste’, যার অর্থ আকাশি নীল। অর্থাৎ ‘আলবিসেলেস্তে’ বলতে বোঝায় ‘সাদা-আকাশি নীল’।

এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা ও জাতীয় দলের জার্সির ইতিহাস। আর্জেন্টিনার পতাকায় রয়েছে দুটি আকাশি নীল ও একটি সাদা অনুভূমিক রেখা। সেই একই রঙের আদলে ১৯০৮ সাল থেকে জাতীয় দলের পরিচিত ডোরাকাটা জার্সি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এরপর থেকেই দলটি ‘লা আলবিসেলেস্তে’ নামে পরিচিতি পায়।

আজ ‘আলবিসেলেস্তে’ শুধু একটি ডাকনাম নয়; এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্য, জাতীয় গর্ব এবং পরিচয়ের প্রতীক। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আকাশি-সাদা জার্সির উপস্থিতি এতটাই চোখে পড়েছে যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তাদের ‘আলবিসেলেস্তে’ নামেই উল্লেখ করেছে।   

ব্রাজিলের নাম কেন ‘সেলেসাও’?

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের বহুল ব্যবহৃত ডাকনাম ‘A Seleção’, যা পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। এর অর্থ ‘নির্বাচিত দল’ বা ‘জাতীয় দল’।

পর্তুগিজ ভাষায় ‘সেলেসাও’ শব্দটি সাধারণভাবে জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী দল বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, ব্রাজিলে এটি বিশেষভাবে জাতীয় ফুটবল দলের সমার্থক হয়ে গেছে। কারণ দেশটির ফুটবল ইতিহাস, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা এবং অসংখ্য সাফল্যের কারণে ‘সেলেসাও’ বললেই সবাই ব্রাজিলকেই বুঝে।

তবে ব্রাজিলের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ডাকনাম রয়েছে। এর মধ্যে ‘কানারিনহো’ (ছোট ক্যানারি পাখি) সবচেয়ে পরিচিত, যা হলুদ জার্সির কারণে প্রচলিত হয়েছে। এছাড়া ‘ভার্দে আমারেয়া’ (সবুজ-হলুদ) নামটিও ব্যবহৃত হয়, যা ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শুধু নামই নয়, ফুটবল সংস্কৃতির প্রতীক

বিশ্ব ফুটবলে জাতীয় দলের ডাকনাম শুধু পরিচয়ের জন্য নয়, বরং সেই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগেরও প্রতিফলন। যেমন ইতালিকে বলা হয় ‘আজ্জুরি’, ফ্রান্সকে ‘লে ব্লু’, উরুগুয়েকে ‘লা সেলেস্তে’, স্পেনকে ‘লা রোহা’। একইভাবে আর্জেন্টিনার ‘আলবিসেলেস্তে’ এবং ব্রাজিলের ‘সেলেসাও’ নাম দুটি আজ বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দুদেশের সমর্থকদের কাছে এই নামগুলো কেবল একটি ডাকনাম নয়, বরং শত বছরের ফুটবল ঐতিহ্য, গৌরব ও আবেগের প্রতীক। তাই মাঠে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের লড়াই যতটা রোমাঞ্চকর, ‘আলবিসেলেস্তে’ ও ‘সেলেসাও’ নাম দুটিও ততটাই ইতিহাসসমৃদ্ধ এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ড।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

সম্পর্কিত খবর

স্কালোনিই থাকছেন আর্জেন্টিনার ডাগআউটে

স্কালোনিই থাকছেন আর্জেন্টিনার ডাগআউটে

নিজের কেনা দ্বীপ দখলের অভিযোগ রিচার্লিসনের

নিজের কেনা দ্বীপ দখলের অভিযোগ রিচার্লিসনের

আর্জেন্টিনা ম্যাচের জেরে মিশর কোচ ও সেই জিকোকে শাস্তি দিল ফিফা

আর্জেন্টিনা ম্যাচের জেরে মিশর কোচ ও সেই জিকোকে শাস্তি দিল ফিফা

ব্রাজিল স্কোয়াডে নতুন চমক আনার ইঙ্গিত আনচেলত্তির

ব্রাজিল স্কোয়াডে নতুন চমক আনার ইঙ্গিত আনচেলত্তির

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ যারা

মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ যারা

আরও পড়ুন

ওয়ানডেতে ৪০০ রানের ক্লাবে নেই বাংলাদেশ, পিছিয়ে জিম্বাবুয়েরও

ওয়ানডেতে ৪০০ রানের ক্লাবে নেই বাংলাদেশ, পিছিয়ে জিম্বাবুয়েরও

তুরস্কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে ওনানা

তুরস্কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে ওনানা

রোনালদোর ৯৮২তম গোলের রাতে আল নাসরের সহজ জয়

রোনালদোর ৯৮২তম গোলের রাতে আল নাসরের সহজ জয়

তাজিকিস্তানের ক্লাবকে ৩-১ গোলে হারাল বাংলাদেশের ফর্টিজ

তাজিকিস্তানের ক্লাবকে ৩-১ গোলে হারাল বাংলাদেশের ফর্টিজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম