Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

এনডিটিভি স্পোর্টস

শাস্তির মুখে পড়তে পারে পুরো আর্জেন্টিনা টিম

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ এএম

শাস্তির মুখে পড়তে পারে পুরো আর্জেন্টিনা টিম

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর মাঠের খেলোয়াড়ি মনোভাব ধরে রাখতে পারলেন না আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার উল্লাসের মাঝেই রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন আলবিসেলেস্তেরা। 

সাবেক টটেনহ্যাম হটস্পার মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো এবং সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের দেওয়া একটি বিতর্কিত ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়। 

ব্যানারটিতে লেখা ছিল— ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। 

ইংরেজদের বিপক্ষে এমন আবেগঘন জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার মালিকানা দাবির এই ব্যানার প্রদর্শন ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যার ফলে ফিফার পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। 

আইএফএবি ও ফিফার কঠোর নিয়মাবলী

ফুটবলের নিয়মকানুনের সর্বোচ্চ সংস্থা আইএফএবি এবং ফিফার স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, ম্যাচ চলাকালীন বা মাঠের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, পতাকা এবং প্রতীক প্রদর্শন করা যাবে না। 

আইএফএবি’র নিয়মাবলীতে বলা আছে, ‘খেলোয়াড়দের কোনো পোশাকে বা সরঞ্জামে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান, বিবৃতি বা ছবি থাকতে পারবে না। কোনো খেলোয়াড় এমন কোনো অন্তর্বাস প্রদর্শন করতে পারবেন না যা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তা বহন করে।

এই নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় এবং দলকে ফিফা বা প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’ 

যেহেতু লো সেলসো এবং ওতামেন্দি দুজনেই দীর্ঘদিন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন, তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর তাদের এমন আচরণকে অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং উসকানিমূলক হিসেবে দেখছেন। 

এদিকে, এই বিতর্কটি মাঠের বাইরে আরও তীব্র রূপ নেয় যখন আর্জেন্টিনার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এই উদযাপনে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেন। 

তিনি লেখেন, ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনারই! তারা স্টেডিয়ামে এই ব্যানার নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু ভুলে গেছে যে আমরা এগুলো আমাদের রক্তে আর হৃদয়ে বহন করি।’ 

কী এই ‘লাস মালভিনাস’ বা ফকল্যান্ড বিতর্ক? 

আর্জেন্টিনার পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টাইনরা ‘লাস মালভিনাস’ নামে ডাকে। 

এই দ্বীপের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধের ইতিহাস ১৯ শতকের নেপোলিয়নীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৭৭৪ সালে ব্রিটেন প্রথম এই অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে এবং ১৮৩২ সালে সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। 

এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে ১৯৮২ সালে, যখন আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক জান্তা দ্বীপটি দখল করতে আক্রমণ চালায়, যা ইতিহাসে ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। ২ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সেনাসদস্যসহ ৩ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। 

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে। 

ইতিহাসের সেই পুরোনো ক্ষত ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে টেনে আনায় এখন স্পেনের বিপক্ষে মেগা ফাইনালের আগে ফিফার নিষেধাজ্ঞার খড়গ ঝুলছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ওপর। 

সূত্র: এনডিটিভি 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম