টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার হতাশা কাটিয়ে নতুন পথে হাঁটতে চাইছে ইতালি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার হতাশা কাটিয়ে নতুন পথে হাঁটতে চাইছে ইতালি। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। স্প্যানিশ এ কোচকে দায়িত্বে আনতে প্রয়োজন হলে আর্থিক নীতিমালায় বিশেষ ছাড় দেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে সংস্থাটির।
ম্যানচেস্টার সিটিতে এক দশকের সফল অধ্যায় শেষ করে বর্তমানে কোচিং থেকে বিরতিতে আছেন গার্দিওলা। ইতালির দায়িত্বে তাকে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন এফআইজিসির সভাপতি জোভান্নি মালাগো। জেন্নারো গাত্তুসোর বিদায়ের পর জাতীয় দলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে গার্দিওলাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে দেখছে ইতালিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
গত এপ্রিলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় ইতালি। সেই ব্যর্থতার পর প্রধান কোচের পদ ছাড়েন গাত্তুসো। এরপর থেকেই স্থায়ী কোচবিহীন অবস্থায় রয়েছেন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মালাগো গার্দিওলাকে আনার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ইতালির একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে কিনা, তা এখনই বলা কঠিন। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা এবং আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, এটি অন্য প্রার্থীদের প্রতি অসম্মান নয়। আমরা আরও কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন কোনো নাম যুক্ত হলেও পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব কমে যাবে না।
আর্থিক বাস্তবতার বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন মালাগো। তার ভাষ্য, আমাদের সামনে বাজেট ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হলে হিসাব করেই এগোতে হবে। তারপরও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আলোচনায় থাকা নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।
সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সেই ব্যক্তি গার্দিওলা কিনা, মালাগো সংক্ষেপে জবাব দেন, হ্যাঁ। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে গার্দিওলা একমাত্র প্রার্থী নন। ইতালির সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনি এবং কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও বিবেচনায় রয়েছে।
কোচিং ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন ৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলা। তার ঝুলিতে রয়েছে ৪১টি বড় শিরোপা, যার মধ্যে তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিও আছে। বিভিন্ন সময় তিনি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।
তবে ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফআইজিসির সঙ্গে গার্দিওলার আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সেটি খুব বেশি দূর এগোয়নি। ২০১৬ সাল থেকে টানা ম্যানচেস্টার সিটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি আপাতত কিছু সময় ফুটবল থেকে দূরে থাকতে চান।
এখন প্রশ্ন একটাই—ইতালির হারিয়ে যাওয়া বিশ্বকাপ স্বপ্ন ও গৌরব পুনরুদ্ধারের মিশনে শেষ পর্যন্ত পেপ গার্দিওলাই কি আজ্জুরিদের নতুন পথপ্রদর্শক হবেন?

-6a614bb8336e4.jpg)