Logo
Logo
×

Advertisement

খেলা

আলো নিভল, পথ দেখিয়ে গেল গ্লাসগো

Advertisement

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

আলো নিভল, পথ দেখিয়ে গেল গ্লাসগো

Advertisement

রোববার সন্ধ্যায় হাইড্রোর আলো নিভে যায় ধীরে ধীরে। করতালি থামে। অ্যাথলেটরা ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের দেশে। স্টেডিয়ামের দরজা বন্ধ হলেও বাইরে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছিল শহর।

কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে প্রকাশিত স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভাষায়, গ্লাসগো ভবিষ্যতের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্য তৈরি করেছে একটি ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’। একটি পরীক্ষিত মডেল, যা আগামী দিনের আয়োজকদের পথ দেখাবে।

মাত্র ১১ দিনে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের অ্যাথলেটরা অংশ নিয়েছেন ১০টি খেলা ও ৬টি প্যারা খেলায়। অনুষ্ঠিত হয়েছে ২১৫টি পদক ইভেন্ট, বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৬৮টি পদক। মাঠে, লাইভ সাইটে এবং  ফেস্টিভ্যালে মিলিয়ে ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি যুক্ত হয়েছেন এই উৎসবে। চার হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক দিয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ ঘণ্টা সেবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমসের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দেখা হয়েছে প্রায় অর্ধশত কোটি বার।

সংখ্যাগুলো বিস্ময় জাগায়। কিন্তু গ্লাসগোর প্রকৃত গল্প সংখ্যার বাইরেই। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে কমনওয়েলথ স্পোর্ট, গ্লাসগো আয়োজক কমিটি, দ্য বাল্ব এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের সেন্টার ফর কালচার, স্পোর্ট অ্যান্ড ইভেন্টস।

পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট,মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন, বড় ক্রীড়া ইভেন্টের ইতিহাসে বিরল।  তার চেয়েও বড় বিষয়, গ্লাসগো নতুন স্টেডিয়াম না বানিয়েও বিশ্বমানের আয়োজন করেছে। এই শহর ইট-সিমেন্টের প্রদর্শনী করেনি।

করেছে পরিকল্পনার। সব প্রতিযোগিতা হয়েছে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে। শহরের সমস্ত ভেন্যু ছিল মাত্র আট মাইলের মধ্যে। ফলে কমেছে ব্যয়, কমেছে যাতায়াত, কমেছে পরিবেশের ওপর চাপ।

আরও একটি জায়গায় ইতিহাস লিখেছে এই শহর।কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় সমন্বিত প্যারা ক্রীড়া আয়োজন হয়েছে। ছয়টি খেলায় ৪৭টি প্যারা ইভেন্ট। শুধু তা-ই নয়, প্রথমবারের মতো গেমসের উদ্বোধনী পদক ইভেন্টও ছিল প্যারা খেলার। 

গ্লাসগো পরিবেশ নিয়েও আপস করেনি। সব প্রতিযোগিতা ভেন্যু পরিচালিত হয়েছে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে। অস্থায়ী অবকাঠামোর ৯০ শতাংশের বেশি ব্যবহারের পর পুনর্ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৯৯ হাজার ৪০১টি পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি হয়েছে ভেন্যুর ব্যানার। গেমসে পরিবেশিত খাবারের ৫৯ শতাংশ ছিল নিরামিষ বা উদ্ভিদভিত্তিক।

পরিবহনেও একই ভাবনা। ব্যবহৃত যানবাহনের ৭১ শতাংশ ছিল হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশ ছিল পুরোপুরি বৈদ্যুতিক।

এই গেমসের আরেকটি অনন্য অধ্যায় লেখা হয়েছে রাজা তৃতীয় চার্লসের ব্যাটন রিলকে ঘিরে। সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যে শুরু হওয়া অভিযানে ১৪ হাজার ৩০৪ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়ে সংগ্রহ করেছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য। একটি ব্যাটন রিলে যে পরিবেশ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, গ্লাসগো তা দেখিয়ে দিল। শহরের মানুষও এই গেমসের অংশ হয়ে উঠেছিলেন। ‘অল ইন’ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল ৭৫০টির বেশি সংগঠন। গ্লাসগোর ২৩টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি আয়োজনের জন্য দেওয়া হয়েছিল ১৬১টি অনুদান। জাতীয় লটারি তহবিলের সহায়তা পেয়েছে ১১০টি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রকল্প।

সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে ব্যয়ের হিসাব। গ্লাসগোর সম্ভাব্য মোট ব্যয় ১৬ কোটি ২৬ লাখ পাউন্ড।২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসে ব্যয় হয়েছিল ৫৪ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। বার্মিংহাম ২০২২-এ সেই ব্যয় পৌঁছেছিল ৬৮ কোটি পাউন্ডে। এবার গ্লাসগো টাকা বাঁচানোর পাশাপাশি বদলে দিয়েছে আয়োজনের দর্শন।

কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলির বলেছেন, এই গেমস ভবিষ্যতের কমনওয়েলথ গেমসের সেতুবন্ধন। আর গ্লাসগোর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটি মনে করেন, সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার কোনো স্টেডিয়াম নয়। এই বিশ্বাস যে আরও অনেক শহর এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সাহস পাবে। সেই সাহসের প্রথম উত্তরাধিকারী ভারত।২০৩০ সালের শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমস বসবে আহমেদাবাদে। আয়োজকদের ভাষ্য, গ্লাসগোর সাশ্রয়ী, বাস্তবসম্মত এবং টেকসই মডেলই তাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

হাইড্রোর আলো নিভে গেছে। পতাকা নেমেছে। স্টেডিয়াম খালি। গ্লাসগো শেষ হয়ে যায়নি।

কিছু শহর বিদায়ের পরও বেঁচে থাকে। তারা ইতিহাসে জায়গা করে নেয় কোনো রেকর্ডের জন্য নয়, একটি নতুন পথ দেখানোর জন্য।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

লন্ডনে বসে ঢাকার মাঠের জন্য কাঁদেন বড় বাদল

লন্ডনে বসে ঢাকার মাঠের জন্য কাঁদেন বড় বাদল

গ্লাসগোর সবুজ স্বপ্নের ভেতর এক বিকাল

গ্লাসগোর সবুজ স্বপ্নের ভেতর এক বিকাল

গ্লাসগোর হৃদয়ে জ্ঞানের আলো

স্বপ্ন বোনে নতুন প্রজন্ম গ্লাসগোর হৃদয়ে জ্ঞানের আলো

বৃদ্ধ মানে বোঝা নয়, তারা জীবন্ত ইতিহাস

বৃদ্ধ মানে বোঝা নয়, তারা জীবন্ত ইতিহাস

স্টেডিয়াম ফাঁকা, শহর ভরা স্মৃতিতে

স্টেডিয়াম ফাঁকা, শহর ভরা স্মৃতিতে

স্বপ্ন হারে না, হারে শুধু প্রস্তুতি

স্বপ্ন হারে না, হারে শুধু প্রস্তুতি

আরও পড়ুন

ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১২ গোলে হারল বাংলাদেশ

ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১২ গোলে হারল বাংলাদেশ

ওয়ানডে অভিষেকের পরদিনই আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন

ওয়ানডে অভিষেকের পরদিনই আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন

নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন হ্যারি ব্রুক

নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন হ্যারি ব্রুক

রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত

রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম